কলেজটিলা ফিশারি অফিসের অব্যবস্থাপনায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন মন্ত্রী সুধাংশু, অনিয়মিত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ

আগরতলা,৯ আগস্ট: মন্ত্রীর সারপ্রাইস ভিজিট ঘিরে তোলপাড় কলেজটিলা ফিশারী অফিস। বুধবার কলেজটিলা ফিসারি অফিসে আচমকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী সুধাংশু দাস। অফিসের পরিবেশ এবং কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখে নিজেই হতবাক। পরে সাংবাদিকদের সামনে সেই ক্ষোভ উগরেও দেন মন্ত্রী।

বুধবার মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস কলেজটিলাস্থিত ফিশারি অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিটে যান। সেখানে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেন দপ্তরের মন্ত্রী। মন্ত্রী লক্ষ্য করেন বহু কক্ষ খালি পড়ে আছে। কক্ষের মধ্যে টেবিল চেয়ার খালি পড়ে আছে। কর্মীরা সকাল ১১ টা বেজে গেলেও অফিসে উপস্থিত হয়নি। চায়ের কাপ প্লেট যত্রতত্রভাবে পড়ে রয়েছে।

তারপর মন্ত্রী গলা উচিয়ে জবাব চায় অফিসের আধিকারিকের কাছে। কর্মচারীদের অ্যাটেনডেন্সের খাতা নিয়ে কে কে অফিসে উপস্থিত রয়েছেন সে বিষয়ে হিসেব নেন। কিন্তু বহু কর্মচারী অফিসে অনুপস্থিত থাকায় চরম অসন্তুষ্ট হয় মন্ত্রী। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সারপ্রাইজ ভিজিটে এসেছিলেন তিনি। পরিদর্শনে এসে তিনি লক্ষ্য করেছেন অধিকাংশ কর্মচারী সময় মত অফিসে আসেন না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দপ্তরের আধিকারিককে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই অফিসে নিজের মনে করে কেউ কাজ করছে না। অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় রয়েছে অফিসটি। এ ধরনের অনিয়ম প্রত্যক্ষ করে তিনি অফিসের আধিকারিককে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী আরো বলেন সরকার কর্মচারী নিয়োগ করেন মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু অফিসে তারা আসে না, কিছু না করে শুধু বসে বসে আড্ডা দেয় আর পলিটিক্স করার কথা বলে। সেই অতীত অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে কর্মচারীদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, কোনক্রমে চাকরি পেয়ে গেলেই হলো, জনগণের জন্য কাজ করার মানসিকতা যে নেই কতিপয় কর্মচারীর সেটা অফিসগুলিতে গেলে ভালো করেই চাক্ষুষ করা যায়। যে কোন সুযোগ সুবিধা পেতে মানুষকে অফিসে দুয়ারে দুয়ার ঘুরতে হয়। পায়ের জুতো ছিঁড়ে গেলেও কাজ হয় না। মর্জি মাফিক অফিসে আসে যায় তারা।  এই অভিযোগগুলি রীতিমতো সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম দখল করলেও হুশ ফিরে না সিংহভাগ কর্মচারী মহলের। অতীত অভ্যাস শুধু কর্মচারী সংগঠনের অফিসে বসে ডিএ বাড়ানোর জন্য কিভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায় এরই চিন্তাভাবনা করেন তারা। এমনই অভিযোগ করেন মন্ত্রী। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রাজ্যের বাজারগুলির মধ্যে মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া। নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষ্য নেই দপ্তরের। বাজারে গিয়ে মহকুমা প্রশাসনের পালিয়ে আসতে হচ্ছে। বাজারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফরমালিন মাছ। বিষাক্ত মাছ খেয়ে মানুষ অসুস্থতায় ভুগছে। এই বিষয়গুলিতে দপ্তরের কর্মীরা যত্ন শীল না হলে কোনোভাবেই এগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *