কলকাতায় রাস্তা মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মৃতিতে

কলকাতা, ৫ আগস্ট (হি. স.) : সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায় বা গাঙ্গুলী (৩ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ – ২৩ মার্চ ১৯৬৫) ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ফেব্রুয়ারি অধুনা বাংলাদেশের খুলনায় জন্মান।

বাবা অবিনাশচন্দ্র গাঙ্গুলী কর্মসূত্রে সেখানে থাকতেন। মা সরলা সুন্দরা দেবীর আদি নিবাস ছিল ঢাকার বাঘিয়ায়। তিনি ঢাকার ইডেন স্কুল থেকে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পাশ করেন। কলা শাখায় ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় তিনি একটি মূক ও বধির বিদ্যালয়ে শিক্ষয়িত্রীর চাকরি পেয়ে কলকাতায় আসেন। কলকাতায় থাকাকালীন প্রাণচঞ্চল তরুণী সুহাসিনী বিপ্লবী দলের মহিলা নেত্রী কল্যাণী দাস ও কমলা দাশগুপ্তের সংস্পর্শে আসেন। তাঁরাই তাঁকে যুগান্তর পার্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। কল্যাণী দাস এবং কমলা দাশগুপ্ত পরিচালিত ছাত্রী সংঘের সদস্য হন সুহাসিনী এবং রাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দীর বাগানে সাঁতার শেখাতেন। সেখানে তিনি ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবী রসিক দাসের সাথে পরিচিত হন।

ব্রিটিশ সরকার তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারায় তিনি ফরাসি শাসনের চন্দননগরে আশ্রয় নেন। স্থানীয় কাশীশ্বরী পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা হন। সকলেই তাঁকে সমীহ করে চলতেন।১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের পর, বিপ্লবী সংঘের নেতাদের নির্দেশে, শশধর আচার্য এবং সুহাসিনী স্বামী-স্ত্রী সেজে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে অনন্ত সিং, লোকনাথ বল, আনন্দ গুপ্ত, জীবন ঘোষাল তথা মাখনলালকে তাদের চন্দনগরে আশ্রয় দেন।

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ কোনও রকমে জানতে পেরে বাড়ি ঘিরে ফেলে। এক সংঘর্ষে জীবন ঘোষাল গুলিতে মারা যান। অন্যান্যদের সঙ্গে সুহাসিনী গ্রেফতার হন। কিন্তু পরে তাঁরা সকলেই মুক্তি পান।সুহাসিনী কল্যাণী দাসের ভগিনী বীণা দাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বীণা দাস ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তারই সূত্র ধরে বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে, সুহাসিনী ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিজলি শিবিরে আটক ছিলেন।

মুক্তির পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট দলের সমর্থক হন। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট অংশের মহিলা শাখার সাথে যুক্ত ছিলেন।কমিউনিস্ট পার্টি ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ না নিলেও সুহাসিনী তাঁর কংগ্রেস সহকর্মীদের সাহায্য করেছিলেন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কর্মী হেমন্ত তরফদারকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে তিনি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পুনরায় জেলে আটক ছিলেন সুহাসিনী।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ নিরাপত্তা আইনে কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হওয়ায় এবং তাঁর কমিউনিস্টদের সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে ১৯৪৮ এবং ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের বেশ কয়েকমাস তাঁকে কারারুদ্ধ থাকতে হয়।

সুহাসিনী গাঙ্গুলী সারা জীবন বিদ্যালয় ও সংগ্রামের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে এক সড়ক দুর্ঘটনার পর তাঁকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিনি চিকিৎসা বিভ্রাটে টিটেনাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কলকাতার ভবানীপুরের পটুয়াপাড়ায় হরিশ মুখার্জি রোড এবং আশুতোষ মুখার্জি রোড সংযোগকারী একট রাস্তা কলকাতা পৌরসংস্থা সুহাসিনী গাঙ্গুলী সরণি নামে নামাঙ্কিত করে।