আগরতলা, ২৯ জুলাই(হি.স.) : ড্রাগস পাচার, ড্রাগসের অপব্যবহার ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিচার বিভাগেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ নরসিংগড়স্থিত ত্রিপুরা জুডিশিয়াল একাডেমির অডিটোরিয়ামে ক্রস বর্ডার অর্গেনাইজড ক্রাইমস মূল্যায়ন ও আইনি সমাধান শীর্ষক অনুষ্ঠানে একথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ত্রিপুরা তিন দিক দিয়ে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা দ্বারা বেষ্টিত। ফলে আন্তর্জাতিক ড্রাগস ব্যবসায়ীরা সহজেই ত্রিপুরাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে। যা রাজ্যের জন্য একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারন এটি তরুন প্রজন্মের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একটা চ্যালেঞ্জ তৈরী করেছে। ড্রাগস পাচার ব্যবসা বর্তমানে দেশের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ ড্রাগস ব্যবসা সন্ত্রাসী ও দেশবিরোধীদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠছে, বলেন তিনি।
তাঁর কথায়, ড্রাগসের অপব্যবহার শুধুমাত্র আমাদের দেশেই নয় বর্তমানে সারা বিশ্বেই প্রধান সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে নেশামুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এদিন শ্রী সাহা বলেন, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত সারা ত্রিপুরায় এনডিপিএস মামলায় এফআইআর নথিবদ্ধ করা হয়েছে ১৫০৯টি, পুলিশ দ্বারা চার্জসিট গঠন করা হয়েছে ১১৪৩টি, গ্রেপ্তার হয়েছে ২,১৩১ জন অপরাধী এবং ৩৩১টি মামলা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া এই সময়ের মধ্যে গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১৬২০২১ কুইন্টাল, কফসিরাফ ও ফেন্সিডিল ৮ লক্ষ ২ হাজার ৮৮টি বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ২৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯১৯টি এবং হেরোইন হয়েছে ২৭৬১৩ কেজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি মানব পাচার রোধেও সরকার সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত মানব পাচার সংক্রান্ত ৪টি মামলা নথিবদ্ধ হয়েছে ও তা তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে, দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ড্রাগস পাচার, ড্রাগসের অপব্যবহার ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিচার বিভাগেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এনডিপিএস আইনের অধীনে মামলা নথিভুক্ত ও তদন্ত করা হলেও জামিনের বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি ভঙ্গি না নেওয়া হলে এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি না পেলে এই সমস্যাটিকে মূল থেকে নির্মূল করতে সক্ষম হবেনা।

