হাতির হানায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে পথ অবরোধ ঝাড়গ্রামে

ঝাড়গ্রাম, ২৬ জুলাই ( হি. স.) : গ্রামের কুড়ি থেকে পঁচিশটি মাটির বাড়ি ভেঙে খাবারের সন্ধান করে হাতির দল। সেই সময় মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুর হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন এক বাড়ির এক মহিলা। পাশাপাশি ব্যপক ভাবে সবজি, চারা ধান খেয়ে পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করছে পাঁচটি হাতির একটি দল।অভিযোগ সারা রাত ধরে পাঁচটি হাতির দল তান্ডব চালালেও বনদফতর ও হুলপার্টির দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি হাতি গ্রামে ঢুকছে বলে কোন আগাম সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। তাই বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ শুরু করলেন।

তাদের অভিযোগ, বনদফতর ক্ষতি পূরণের ফর্ম জমা নিলেও ক্ষতি পূরণ দিচ্ছে না। তাই হাতে হাতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে গ্রামের মহিলা, পুরুষ নির্বিশেষে পথ অবরোধে সামিল হয়েছেন। এদিন সাঁকরাইল থানার গুপ্তমনি – কুলটিকরি যাওয়ার পিচরাস্তা জুগিশোল এলাকায় পথ অবরোধ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে টিয়াকাটি গ্রামের বাসিন্দারা তখন সবাই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত প্রায় বারোটা নাগাদ পাঁচটি দলমা দলের হাতি গ্রামে ঢুকে পড়ে। গ্রামে ঢুকেই খাবারের সন্ধানে পর পর মাটির এবং কংক্রিটের দেওয়াল গুলি ভাঙতে থাকে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হাতির হাত থেকে বাঁচতে অনেক গ্রামে অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া কংক্রিটের দেওয়াল করেন। কিন্তু সত্ত্বেও হাতির হানা থেকে নিজের বাড়ি বাঁচাতে পারছেন না। রাতে সব মিলিয়ে মাটির ও কংক্রিটের বাড়ি ভেঙেছে কুড়ি থেকে পঁচিশটি। রাতে গ্রামে হাতির তান্ডব চলতে থালকেও বনদফতর বা হুল পার্টির দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরাই কোন মতে হাতি গুলিকে গ্রাম ছাড়া করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ এর আগেও হাতি ঘর ভাঙেছে, জামির ফসল নষ্ট করেছে কিন্তু বনদফতর ক্ষতি পূরণের অর্থ এখনও দেয় নি।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে হাতির তান্ডবের পর এদিন সকাল থেকে ক্ষতিপূরন অবিলম্বে নগদ দেওয়ার দাবিতে পথ অবরোধে সামিল হন টিয়াকাটি গ্রামের বাসিন্দারা। অবরোধের ফলে গুপ্তমনি -কুলটিকরি রাস্তায় সার বেঁধে দাঁড়িয়ে যায় পন্যবাহী গাড়ি সহ অন্যান্য যানবাহন। টিয়াকাটি গ্রামের বাসিন্দা সম্পা দাস বলেন ” অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি আমরা। বাড়ির দেওয়াল ও আামদের একটি গাড়ি পুরো ভেঙে দিয়েছে। জমির বিজ তলা তছনছ করেছে হাতির দল। রাতে বনদফতরের লোকজন, হুল পার্টি কেউ আসে নি। হাতি ঢুকতে পারে এমন কোন সতর্ক বার্তা দেয় নি বনদফতর। তা দিলে আমরা আগের থেকে সতর্ক হতে পারতাম। ক্ষতি পূরণের ফর্ম জমা দিলে তা পড়ে থাকে। আমারা চাই হাতে হাতে ক্ষতি পূরণের অর্থ দেওয়া হোক। এই দাবিতেই পথ অবরোধ করা। ” দীর্ঘক্ষন অবরোধ চলার পর পুলিশ, বনদফতর, প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায় ” ঘটনা স্থলে ছিলেন সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ও এবার জেলা পরিষদের আসনে জয়ী প্রার্থী কমল রাউৎ। তিনি বলেন ” গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এক মাসের মধ্যেই ক্ষতিপূরন দেওয়া হবে। এরপর তারা অবরোধ তুলে নেয়। “
অন্যদিকে খড়্গপুরের ডিএফও শিবানন্দ রাম বলেন ” ওই এলাকায় ১০ থেকে ১৫ টা হাতি রয়েছে। সেগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বর্ষা কালে ড্রাইভিং করতে সমস্যা হল। হুলা জ্বলতে চায় না। তবে আমরা গ্রামবাসীদের বলেছি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা ক্ষতি পূরণ পেয়ে যাবেন। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *