কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব ”ইন্ডিয়া”-র, মেঘওয়াল বললেন সমস্ত পরিস্থিতির জন্য সরকার প্রস্তুত

নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (হি.স.): কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনল বিরোধীদের ”ইন্ডিয়া” জোট। বুধবার সকালে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। মণিপুর নিয়ে ক‌েন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে ২৬টি বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’। একই বিষয়ে আলাদা করে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)-ও। ‘ইন্ডিয়া’র হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। বিআরএসের হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন সাংসদ নামা নাগেশ্বর রাও। উল্লেখ্য যে, তেলঙ্গানার শাসকদল বিআরএস ২৬টি বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’য় অংশ নেয়নি। তবে সাম্প্রতিক অতীতে বহু বার বিজেপির বিরোধিতায় সরব হতে দেখা গিয়েছে তাদের।

বিরোধীদের এই অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেছেন, “অনাস্থা প্রস্তাব আসুক, সরকার সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আমরা মণিপুর নিয়ে আলোচনা চাই… অধিবেশন শুরুর আগে তাঁরাও আলোচনা চেয়েছিল। আমরা রাজি হলে তাঁরা বিধিমালার বিষয়টি তুলে ধরেন। আমরা যখন নিয়মের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি, তখন তাঁরা নতুন ইস্যু নিয়ে এসেছে যে প্রধানমন্ত্রীকে এসে আলোচনা শুরু করতে হবে। আমি মনে করি এই সব অজুহাত।”

বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও মোদী সরকারের কোনও সঙ্কট তৈরি হবে না। কারণ খাতায় কলমে ৩৩২ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে শাসক পক্ষের দিকে। বিরোধী দলগুলির অবশ্য বক্তব্য, মণিপুর নিয়ে সরকারের ‘নীরবতা’ ভাঙতেই তারা সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। এই প্রসঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক শিবসেনার তরফে বলা হয়েছে, মণিপুর নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী যাতে সংসদে আসেন, সেই কারণেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপির উপর মানুষের আস্থা রয়েছে। বিরোধীরা আগেও অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। কিন্তু মানুষ ওদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে।” সিপিআই সাংসদ বিনয় বিশ্বম বলেছেন, “এই অনাস্থা প্রস্তাব একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ – একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ যা ফলাফল আনবে… অনাস্থা প্রস্তাব তাঁকে (প্রধানমন্ত্রী) সংসদে আসতে বাধ্য করবে। সংসদের অভ্যন্তরে দেশের সমস্যা, বিশেষ করে মণিপুরের বিষয়ে আলোচনা দরকার। সংখ্যা ভুলে যান, তাঁরা সংখ্যা জানেন এবং আমরাও জানি।”