মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের দাবি
হাফলং (অসম), ২৪ জুলাই (হি.স.) : মণিপুরের হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও মহিলা-শিশুদের ওপর সংগঠিত বর্বর ও অমানবিক কার্যকলাপ নিয়ে গর্জে উঠেছে কুকি স্টুডেন্টস্ অর্গেনাইজেশন, মার স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন, মার উইমেন অ্যাসোসিয়েশন এবং কুকি উইমেন অ্যাসোসিয়েশন।
দীর্ঘদিন থেকে মণিপুরে মেইতেই জনগোষ্ঠী ও কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের ফলে মণিপুরে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন। এমন-কি এই দুই জনগোষ্ঠীর সংঘাতে বহুজনের মৃত্যুও হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার মণিপুরের এই হিংসাত্মক কার্যকলাপ রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগ করেছে সোচ্চারকারীরা।
এরই মধ্যে গত ৪ মে মণিপুরে দুই কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মহিলাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে তাদের বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটিয়ে জনসমক্ষে মেইতেই জনগোষ্ঠীর এক দুষ্কৃতকারীর দল। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমগ্র দেশ মায় আন্তর্জাতিক স্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত ৪ মে সংগঠিত ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার ডিমা হাসাও জেলার মাহুর ক্রীড়া সংস্থার মাঠে কুকি স্টুডেন্টস্ অর্গানাইজেশন, মার স্টুডেন্টস্ অ্যাসোসিয়েশন, মার উইমেন অ্যাসোসিয়েশন, কুকি উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এক প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হয়।
মাহুর ক্রীড়া সংস্থার মাঠে প্রতিবাদকারীরা অবিলম্বে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে পরিবেশ উত্তাল করে তুলেন। প্রতিবাদকারীরা শুধু এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তাঁরা মণিপুরের কুকি-জো জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা করার দাবি সহ অবিলম্বে চিফ অব আরামবাই টেংগল এবং মেইতেই লিপনের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মণিপুরের সমগ্র ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে প্রতিবাদস্থলে সিলভিয়াস খজল বলেন, মণিপুরে শিশু ও মহিলাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অতি বর্বরভাবে প্রকাশ্যে মহিলাদের দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহ দেশের মানুষের নিন্দা ও ধিক্কার জানানো উচিত। তিনি বলেন, মণিপুরের এ সব ঘটনা নিয়ে এখন রাজনীতি করার সময় নয়।
সিলভিয়াস খজল মণিপুরের ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনীতি না করে এর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই। আমরা লড়তে জানি। তবে আমাদের লড়াই করার জন্য বাধ্য করানো হলে আমরাও লড়াই করতে পিছু হটবো না। মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ যাতে মণিপুরের শান্তির জন্য কাজ করে এই আহ্বান জানিয়ে সিলভিয়াস খজল বলেন, যতদিন এন বীরেন সিং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন মণিপুরে শান্তি আসা অসম্ভব। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অবিলম্বে এন বীরেন সিংয়ের ইস্তফা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে মণিপুরে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান প্রতিবাদকারীরা।
তাছাড়া মণিপুরের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা। মণিপুরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদকারীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।