দুর্গাপুর, ২৩ জুলাই (হি. স.) মদের নেশায় বুঁদ হয়ে সর্বসান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। নেশায় আসক্ত হচ্ছ যুবসমাজ। তাই অবৈধভাবে মদ বিক্রির প্রতিবাদ করেছিল। আর ওই মদ বিক্রির প্রতিবাদের মাশুল সিপিএম নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লী এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দুর্গাপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দলীয়কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সরব সিপিএম নেতৃত্ব।
ঘটনায় জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একজন অসাধু ব্যাবসায়ী অবৈধভাবে মদ বিক্রি করে। ফলে এলাকার বহু যুবক মদের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। মদের নেশায় সর্বসান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। ফলে সুষ্ঠ সামাজিক পরিবপশ নষ্ট হচ্ছে। আর তার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মহিলারা। প্রতিবাদ সরব এলাকার মহিলারা অবৈধ ওই মদের ঠেক বন্ধ করতে এগিয়ে আসে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।” কোনও সুরাহা না হওয়ায় মহিলাদের পাশে দাঁড়ায় স্থানীয় সিপিএমের যুব’র অঞ্চল কমিটির সম্পাদক মোহন পাসওয়ান। মহিলাদের সঙ্গে এলাকায় অবৈধভাবে মদ বিক্রির প্রতিবাদ করে মোহন পাসওয়ান। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। রবিবার সকালে দু’জন বাইকে করে এসে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালাই বলে অভিযোগ।
মোহন পাসওয়ানের মা শান্তি দেবী পাসওয়ান বলেন, “মদ বিক্রির প্রতিবাদ করাই আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালাই তৃণমূলে আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আমরা থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।”পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিপিএমের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, “অবৈধ মদ ও জুয়ার ঠেক দুর্গাপুর জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। তৃণমূলের প্রশ্রয়ে ওই ঠেক গুলি চলে। ওই এলাকার মহিলারা তার প্রতিবাদ করেছে। আর তার জন্য মোহন পাসওয়ানের ওপরে আঘাত হানা হল।” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক
দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি রাজীব ঘোষ বলেন, “মোহন পাসওয়ান ভারতী এলাকার পার্টি অফিস থেকে আমাদের এক কর্মী ডেকে মারধর করার চেষ্টা করে। আমরা এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ ওদের বাড়ি ভাঙচুর করেনি। সাজানো ঘটনা। এলাকায় অবৈধভাবে মদ বিক্রি হচ্ছে আমরাও চাই পুলিশ প্রশাসন বন্ধ করুক। আমরা সোমবার এলাকার মানুষের সঙ্গে একটি বৈঠক করব।” গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।