বারাসতে ডেঙ্গিতে মৃত্যু নাবালিকার

বারাসত, ১৪ জুলাই (হি.স.) : বারাসতে ডেঙ্গির বলি এক নাবালিকা । বারাসত পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদনগরের ঘটনা । বুধবার রাতে আরজিকর হাসপাতালে মৃত্যু হয় সায়নিকা হালদার নামে ওই নাবালিকার। বারাসতে চলতি বর্ষার মরশুমে এই প্রথম ডেঙ্গিতে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ঘটনায় পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

বারাসত পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদনগরের বাসিন্দা বছর তেরোর সায়নিকা হালদার তিন-চার দিন আগে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রথমে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় সায়নিকার। বারাসতে চলতি বর্ষার মরশুমে এই প্রথম ডেঙ্গিতে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ঘটনায় পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এলাকার নর্দমা মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করা হলেও একাধিক জায়গায় জল জমে থাকে। তার ফলেই ডেঙ্গি ছড়াচ্ছে এলাকায়। নাবালিকার পরিবারের কথায়, সায়নিকার প্রথমে জ্বর হয় তারপর বমি এবং পেটে ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে রক্তের নমুনা পরীক্ষার পর ডেঙ্গি ধরা পরে। তারপর বারাসত হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্ত শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়,অবশেষে আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে বুধবার রাতেই মৃত্যু হয় ছোট্ট সায়নিকার। এই ঘটনার পরেই তৎপর হতে দেখা যায় বারাসত পুরসভাকে। এলাকায় নর্দমাগুলিতে মশার লাভার মারার কীটনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়।

এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ। হালদার পরিবারের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ওই বাচ্চা মেয়েটাই এরকম পরিণতি হবে আমরা কেউই ভাবতে পারিনি পাড়ায়। বৃষ্টি হয়নি অনেকদিন। তা সত্ত্বেও যদি এখনই ডেঙ্গির এরকম অবস্থা হয়, তাহলে লাগাতার বৃষ্টি শুরু হলে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত কতটা হতে পারে, সেই ভেবেই আতঙ্ক লাগছে।’

যদিও এই বিষয়ে পুরসভার কোনও আধিকারিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত ডেঙ্গির ঘটনা জুলাই মাসে বাড়তে শুরু করে। যা অব্যাহত থাকে অক্টোবর পর্যন্ত। আর এই কারণেই এই ভরা বর্ষায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।