ইমফল, ১১ জুলাই (হি.স.) : ‘মণিপুরে সহিংসতার জন্য দায়ী কংগ্রেস’। দুদিন আগে গুরুতর এই অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও বিদেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী, মণিপুরের সাংসদ রাজকুমার রঞ্জন সিং। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগকে ‘সারবত্তাহীন, অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ওখরাম ইবোবি সিং।
রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেসের দলনেতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, বর্তমান সংকটকালে কংগ্ৰেসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে রঞ্জন সিঙের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন, কংগ্রেস তাঁর এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা করে। তিনি বলেন, একটি টিভি চ্যানেলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী আরকে রঞ্জন সিং মণিপুরে চলমান সহিংসতার জন্য কংগ্রেস দলকে দায়ী করেছেন। মন্ত্রী বলেছিলেন, তৎকালীন কংগ্রেস সরকার কর্তৃক সৃষ্ট পাহাড় ও উপত্যকার মধ্যে বৈষম্য বর্তমান সংকটের ফল। তবে, কংগ্রেস তাঁর অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং ভিত্তিহীন বলে মনে করেছে, বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইবোবি।
ইবোবি সিং আরও বলেন, আরকে রঞ্জনের পোর্টফোলিও দেখে কংগ্রেস তাঁর কাছ থেকে অনেক প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এই সংকটকালে দলের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ সময় দোষারোপ-অভিযোগ না করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে আরকে রঞ্জন সিংকে মণিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত, পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ওখরাম।
প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী আরও বলেন, ‘কয়েকদিন আগে উত্তেজিত জনতা তাঁর বাসভবন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পরে মিডিয়ার সামনে এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, বিজেপি সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। তাঁর এ ধরনের দাবি বিজেপি সরকারের অক্ষমতা প্রমাণ করে।’
তিনি বলেন, কংগ্রেস সর্বদা রাজ্য সরকারকে বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে চায়। তাঁর দল আশা করে, রাজ্য সরকার অবশ্যই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ‘আমরা রাজ্যপালের কাছেও বিষয়টি নিয়ে আর্জি জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেনের অধীনে বর্তমান সরকার একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য দায়বদ্ধ’, বলেছেন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে সিএলপি নেতা ওখরাম ইবোবি সিং।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিং তথা ইনার মণিপুর আসনের সাংসদ (বিজেপি) মণিপুরের বিরাজমান অস্থিরতার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে সংঘাতিক বক্তব্য পেশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, আজ যে সহিংসতা এবং বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে, তা হলো দুর্নীতি, অদক্ষতা, পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নমূলক বৈষম্য, অপর্যাপ্ত শিক্ষা এবং তাদের (কংগ্রেস) শাসনামলে প্রবর্তিত ভুলের ফসল। মণিপুরে জাতি-দাঙ্গার জন্য কংগ্রেসের নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী। বলেন, ২০১৭ সাল পর্যন্ত মণিপুরে টানা ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদের বীজ বপন করে গেছে। আজ তা ফুলেফেঁপে উঠেছে এবং ফল ভোগ করতে আমজনতা সহ বর্তমান সরকারকে।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিং ত্রিশুর আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপের সাথে এক বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে বিশপ অ্যান্ড্রুস আবেগের সাথে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য উভয় সরকারকে মণিপুরে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিশপ অ্যান্ড্রুসের এই আর্জির পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজকুমার সিং জোরের সঙ্গে তাঁকে আশ্বস্ত করেন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে অক্লান্তভাবে কাজ করছে। উত্তেজনা প্রশমিত করতে সমাধান সূত্র বের করতে মাটি কামড়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে উভয় সরকার।