আগরতলা , ৫ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসে ধ্বস নেমেছে। বিজেপির থাবায় ওই দুই বিরোধী দল রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কারণ, ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ–র পুত্র আশীষ লাল সিংহ আজ কর্মীদের সাথে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত ভট্টাচার্যও আজ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আজ প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্য ও পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী তাদেরকে দলে বরণ করে নিয়েছেন। বিজেপি দলে যোগদান করে প্রশান্ত ভট্টাচার্য কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বমর্নের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বামগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরায় কংগ্রেস দলের অস্তিত্ব ফুরিয়ে গেছে। এয়োদশ বিধানসভার নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে আঁতাত করে কংগ্রেস দল রাজনীতির দেউলিয়াপনা প্রমাণ করে দিয়েছে।
তাঁর কথায়, এক সময় ত্রিপুরায় প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ সহ কংগ্রেস দলের নেতৃত্বরা কমিউনিস্টদের সাথে লড়াই করেছিলেন।ত্রিপুরায় কংগ্রেস দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বস্ব বলিদান দিয়েছিলেন তাঁরা। আজ সেই কংগ্রেস দল সমস্ত বলিদান ভুলে গিয়ে এয়োদশ বিধানসভা নির্বাচনে কমিউনিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে। বামগ্রেসের এই অশুভ আঁতাতকে পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরার সাধারণ মানুষও বজর্ন করেছেন।
তাঁর কটাক্ষ, কংগ্রেসের এই দেউলিয়াপনার বিরুদ্ধে দলের একাংশ নেতৃত্ব সোচ্চার হয়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন। তাঁদেরকে বিজেপি স্বাগত জানিয়েছে। আগামী দিনে তাসের ঘরে মতো ভেঙে যাবে বামগ্রেসের জোট।
সাথে শ্রী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জিরো টলারেন্স নীতি বিশ্বের দরবারে ভারতকে অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেন যা অতুলনীয়। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তিন শতাধিক আসন নিয়ে পুনরায় কেন্দ্রে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। সাথে তিনি উন্নয়নের লক্ষ্যে বামগ্রেসের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিন বিজেপি দলে যোগদান করে কংগ্রেসের দলত্যাগী নেতা প্রশান্ত ভট্টাচার্য বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন।তিনি বলেন, বর্তমানে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কংগ্রেসকে লীজ দিয়ে রেখেছে। তিনি যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাই মেনে নেন।
প্রশান্তের কথায়, দীর্ঘ দিন কংগ্রেস দলের সাথে যুক্ত কর্মীদের এবং দলের দুর্দিনে পতাকা হাতে নেওয়া কর্মীদের দলে মর্যাদা নেই বললেই চলে। এই সমস্ত কারণে দল করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কংগ্রেস ছেড়েছেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, এয়োদশ বিধানসভা নির্বাচনে সুদীপ রায় বর্মন নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য কমিউনিস্ট দলের সাথে হাত মিলিয়েছেন। তা না হলে ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনের মতো এবছরও কংগ্রেস দলের আসন শূন্যই থাকত।
এদিন বিজেপি দলে যোগদান করে আশীষ লাল সিংহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ত্রিপুরায় উন্নয়ন ধারা বয়েই চলেছে। তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপি দলে যোগদান করেছেন তিনি। সাথে তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় তৃণমূলের কর্মীরা দলনেত্রীর অবহেলার শিকার হয়েছেন। বহুবার তাঁর সাথে দেখা করার প্রত্যাশা নিয়ে হতাশ হয়েছেন কর্মীরা। এমনকি, ত্রিপুরায় এয়োদশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে এসেও তিনি প্রদেশ তৃণমুল কংগ্রেসের কর্মীদের সাথে দেখা করেননি। এই ক্ষোভ থেকে তৃণমূল ছেড়েছেন তিনি।