আগরতলা, ২৬ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী উৎসব খার্চি পূজার সূচনা হয়েছে আজ। চিরাচরিত প্রথা মেনে খার্চি পূজা শুরু হয়েছে। করোনার প্রকোপে জেরে দুই বছর পর এবছরের খার্চি পূজায় অগণিত ভক্তদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। খার্চি উৎসবের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা:) মানিক সাহা বলেন, সপ্তাহব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগমে সম্প্রীতি, সৌভাতৃত্ব এবং ঐতিহ্যের মিলনতীর্থে পরিণত হয় পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা মন্দির।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খার্চি পূজা ত্রিপুরার জাতি-জনজাতিদের অন্যতম প্রধান উৎসব। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে খার্চি পূজা হয়। আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক চেতনার মেলবন্ধনে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগমে সম্প্রীতি, সৌভাতৃত্ব এবং ঐতিহ্যের মিলনতীর্থে পরিণত হয় পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা মন্দির।
তাঁর কথায়, ত্রিপুরার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, পরম্পরা এত বেশি ভরপুর যে অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় এই ছোট্ট পার্বতী রাজ্য কোন অংশেই কম নয়। এই ধরনের সংস্কৃতি আর অন্য কোন রাজ্যে আছে কিনা তাঁর জানা নেই।
সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরায় জনজাতিদের সংস্কৃতি অপূর্ব। এই ধরণের সাংস্কৃতি ত্রিপুরায় লুপ্ত হওয়ার পথে ছিল।ত্রিপুরা সরকার এই সাংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
এদিন তিনি বলেন, চতুর্দশ দেবতার পূজা ও পরম্পরাকে ধরে রাখতে একটি ট্রাস্ট গঠনের খুব দরকার। উদয়পুর মাতাবাড়ি পরিচালনার জন্য ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। আইনগত কোনো বাধা না থাকলে পুরাতন আগরতলার চতুর্দশ দেবতা মন্দিরেও ট্রাস্ট গঠন করা হবে। এই বিষয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খার্চি উৎসব উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী চতুর্দশ দেবতার নিকট সকলের সুখ, সমৃদ্ধি এবং রাজ্যের সার্বিক কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন।

