– নিরাপদ বরাক উপত্যকার নাগরিককুল, নিজের কেন্দ্র জালুকবাড়ি হারানোয় অসন্তুষ্ট নন হিমন্তবিশ্ব
– ‘যাঁরা মূল আদিবাসী, ভূমিপুত্র, তাঁরাই খিলঞ্জিয়া’
ধুবড়ি (অসম), ২১ জুন (হি.স.) : অসমে লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের যে খসড়া ডিলিমিটেশন প্রস্তাব ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) প্রকাশ করেছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ বুধবার এখানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগাভ্যাসের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বার্তালাপ করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতের নির্বাচন কমিশনের অসমে লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত খসড়া ডিলিমিটেশন প্রস্তাব সম্পর্কে এক জিজ্ঞাসার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, প্রকাশিত খসড়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট। এই খসড়াকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে খবরটি দেখেছি। প্রকাশিত খসড়া ডিলিমিটেশনের প্রস্তাবে জনসাধারণের উৎসাহ আমার নজর কেড়েছে। নাটকীয়ভাবে বেড়েছে জনতার উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। অসম তথা দেশের জনসাধারণের ভবিষ্যতের জন্য তৈরিকৃত খসড়ায় অসমের খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র)-দের স্বার্থ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
‘খিলাঞ্জিয়া’ শব্দের প্রকৃত মানে সম্পর্কিত জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি বলেন, যাঁরা মূল আদিবাসী, ভূমিপুত্র তাঁরাই খিলঞ্জিয়া। ড. শর্মা যোগ করেন, ‘যদি আহোম, চুতিয়া, বড়ো, কারবিরা খিলঞ্জিয়া না হন, তা-হলে খিলাঞ্জিয়া কে? এটি এমন নয় যে বর্ণ বৈষম্যের কারণে একজন ব্যক্তি কেবল খিলঞ্জিয়া।’
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব জোরের সঙ্গে বলেন, বরাক উপত্যকার নাগরিককুল ডিলিমিটেশনের এই খসড়ায় নিরাপদ। পাশাপাশি উত্তর-অসমের আহোম এবং চুতিয়ারা প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
ডিলিমিটেশনের ফলে তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র জালুকবাড়ি বিলুপ্ত হয়েছে। এ সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার নিজের আসন হারিয়েছি। কিন্তু এটা কোনও ব্যাপার নয়। কারণ আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, আমি যেখানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, সেখানেই জনতা আমাকে তাঁদের ভালোবাসা দিয়ে স্বাগত জানাবেন।’
প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রথম, লখিমপুর এবং ধেমাজি আহোম ও চুতিয়াদের জন্য দুটি আসন যোগ হয়েছে। ২০০৭ সালের খসড়ায় যোরহাট আসন কাটা হয়েছিল। গত বছর ডিব্রুগড় এবং তিনসুকিয়া আসনও কমানো হয়েছিল, কিন্তু এবার অপরিবর্তিত রয়েছে। সুতরাং বেশি কেন্দ্র যোগ না করে এবারের খসড়া অত্যন্ত ভালো ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে। নেতারা মহা-উৎসাহের সঙ্গে এসে ওই ব নির্বাচনী এলাকার অটল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সমগ্র অসমকে রক্ষা করবেন।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গোয়ালপাড়া জেলা, রাভা এবং বড়ো সম্প্রদায়ের সবাই বকো, কামরূপ গ্রামীণ জেলা পর্যন্ত সুরক্ষিত। গুয়াহাটি, তিনসুকিয়া, ধেমাজি, লখিমপুর, বাকসায় আসনের বর্ধিত সংখ্যা দেখে আমরা আর কী আশা করতে পারি?’
কংগ্রেস দলের নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, কংগ্রেসের ব্যর্থতা অসমিয়া ‘খিলঞ্জিয়া’-র ব্যর্থতা নয়। কারণ কংগ্রেস কার ভোটে খেলে এবং কার ভোটে জয়ী হয় তা সবাই জানে। কংগ্রেসের ব্যর্থতা ভারতীয় ব্যর্থতা নয়, তারা ক্রমাগত তাদের জন্য কাঁদবে, তাদের কান্না থামাতে কেউ আসবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কংগ্রেস যতই প্রতিবাদ করুক, অসমিয়া ভারতীয়রা অসম রাজ্যের জন্য সংসদীয় এবং বিধানসভা কেন্দ্রের ডিলিমিটেশনকে সহজাতভাবে সঠিক বলে প্রশংসা করবে। কংগ্রেস যখন কাঁদে, আমরা কেবল তাঁদের দেখে হাসতে পারি, স্বভাবসুলভ কটাক্ষ মুখ্যমন্রীে হিমন্তবিশ্ব শর্মার।

