ঝাড়গ্রাম, ১৭ জুন ( হি. স.) : সবজি ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে চারিদিকে জিআই তার দিয়ে বেড়া দিয়েছিলেন কৃষক। আর সেই তারে পা লেগে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। অভিযোগ সবজি ক্ষেতের ওই জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেখেছিলেন কৃষক। এই ঘটনার পরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শনিবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনী থানার মুড়াকাটি খড়গপুর এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সুভাষ পাত্র (৫২)। বাড়ি ওই গ্রামে৷ স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে এদিন সকালে গ্রামের পাশের জমিনের দিকে গিয়েছিলেন তিনি। সবজি ক্ষেতের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে সবজি ক্ষেতের তারের বেড়াতে পা লেগে যায়। অভিযোগ পা লাগার সাথে সাথেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান সুভাষ বাবু। সেখাই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় মানুষজনেরা দেখেন সবজি ক্ষেতের তারের বেড়াতে পা লাগা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। এরপর জামবনী থানার পুলিশ খবর দেন বাসিন্দারা। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
জানা গিয়েছে, হাতির তান্ডব থেকে সবজি ক্ষেতে বাঁচানোর জন্য বিদ্যুৎতের বেড়া দেন কৃষকেরা। যদিও পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন জামবনী থানার পুলিশ।উল্লেখ্য ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ব্লকের কৃষকেরা জমির ফসল বাঁচানোর জন্য জমিতে বিদ্যুৎ দিয়ে ঘিরে রাখেন। আর সেই কারনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক বার জঙ্গলমহলে হাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই ওই ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাকি অন্য কোনো কারনে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে।
এবিষয়ে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার ডিভিশন্যাল ম্যানেজার মৌমীত মাঝি বলেন ” আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। ” অন্যদিকে শুক্রবার রাতে গোপীবল্লভপুর দুই ব্লকের আধাঁরিয়া গ্রামের এক যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত ব্যক্তির নাম প্রবীর জানা (৩৬)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে এদিন রাতে কোনো ভাবে বাড়ির দরজাতে বিদ্যুৎতের তার লাগে যায়। যার ফলে গোটা দরজাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে যায়। এদিন রাতে দরজা বন্ধ করতে গেলে হাত দেওয়ার সাথেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষনা করেন। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।