মুষলধারে বৃষ্টিপাত, ধস, ব্যাহত যাতায়াত ব্যবস্থা, বিপর্যস্ত ডিমা হাসাও জেলার জনজীবন


হাফলং (অসম), ১৫ জুন (হি.স.) : মুষলধারে বৃষ্টিপাতের জেরে ডিমা হাসাও জেলার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন থেকে ডিমা হাসাও জেলায় অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভূমিধসে বহু গ্রামের সংযোগী পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন-কি নাগাড়ে বৃষ্টির দরুন শিলচর-হাফলং ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে তীব্র বেগে কাদাজল নেমে আসছে। ফলে জাতীয় সড়ক নদীর আকার ধারণ করেছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ধস নেমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে শিলচর-হাফলং জাতীয় সড়কে। বিশেষ করে হাফলং-হারাঙ্গাজাও এবং বালাছড়া থেকে হারাঙ্গাজাও অংশের অবস্থা একেবারে শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই পাহাড় থেকে নেমে আসা জল আর মাটিতে সড়কপথটি বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও এনএইচআইডিসিএল ধসমুক্ত করে সড়কটি সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এমতাবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। মেঘালয়ের সোনাপুরে ধস নেমে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ায় শিলচর-হাফলং ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে বহু পণ্যবাহী লরি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতে উমরাংসো-লংকার সড়কপথে বড় বড় গাছ রাস্তার ওপর ভেঙে পড়ায় এই সড়কপথেও যানবাহন চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। কিন্তু বিকালের দিকে এই সড়ক সচল করে তোলা হয়।

এদিকে গুয়াহাটির মেট্রোলজিক্যাল বিভাগ আগামী সোমবার পর্যন্ত ডিমা হাসাও জেলা সহ বরাক উপত্যকার কাছাড় করিমগঞ্জে প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে। মেট্রোলজিক্যাল বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করার পর ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন সাধারণ নাগরিকদের বৃষ্টির সময় বিনা প্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি ভূমিধস-প্রবণ অঞ্চলগুলিতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির জেরে যদি পাহাড়ি জেলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা-হলে উদ্ধারকার্যের জন্য এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়েছে ডিমা হাসাও জেলায়।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন পাহাড়ি জেলার বিভিন্ন সড়কে যে সব গর্ত বা ভাঙা রাস্তা রয়েছে, বৃষ্টির সময় যে কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে ওই সব রাস্তায় গর্তের পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পূর্ত বিভাগ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, এনএইচআইডিসিএল সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *