অশোক সেনগুপ্ত
কলকাতা, ১০ জুন (হি. স.) : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ না করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে বর্ণিত কলকাতার অতি পরিচিত এক উদ্যোক্তার টিভি অনুমোদন বাতিল করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় টুইটারে খবরটি যুক্ত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুবাবু খবরটি টুইটারে যুক্ত করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরকে লিখেছেন, “খুব ভাল কাজ করেছেন“। সঙ্গে যুক্ত করেছেন মূল খবরটি।
‘বিগ ব্রেকিং’ শিরোনামে মূল খবরে লেখা, “তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রক এমন একটি মিডিয়া সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করেছে যা খুব কমই পরিচিত কিন্তু এটির ঘনিষ্ঠ সহযোগী সংস্থার সর্বাধিক বিজ্ঞাপনের আয় ছিল। কাকতালীয়ভাবে, উভয় সংস্থারই কলকাতার সাথে তাদের সংযোগ রয়েছে। একই প্রবর্তক এই দুই সংস্থার যাঁর সংস্থায় ইডি, সিবিআই এবং আয়কর অভিযান করা হয়েছিল। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
কোনও অনুমান? তদন্তে শত শত কোটি টাকার ভুয়াে চালানের পাশাপাশি তহবিল পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতায় থাকা সরকার বেসরকারী সংস্থাগুলিকে প্রসারিত সুবিধার জন্য কিকব্যাক পাওয়ার এটি ধ্রুপদী ঘটনা।
আর একটি তথ্য যা আপনার মনকে উড়িয়ে দেবে যে মিডিয়া কোম্পানির কোনো অফিস ছিল না। কোনও টেকনিক্যাল স্টাফ ছিল না এবং কোনো লিজ লাইন ছিল না। তবুও এটি বিশাল বিজ্ঞাপন পাচ্ছিল।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮-র ২৬ ফেব্রুয়ারি কানাড়া ব্যাঙ্ক কলকাতার একটি সংস্থার বিরুদ্ধে ৮১ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগে রুজু করে। এর পর ১ মার্চ সিবিআই কানাড়া ব্যাঙ্ক ও পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক-সহ ১০টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়ামের ৫১৫ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক জালিয়াতির দায়ে এই উদ্যোগপতি-সহ
কলকাতার ওই সংস্থার দুই অধিকর্তাকে গ্রেফতার করে। এই দু’জনই একসময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা উদীয়মান উদ্যোগপতি হিসাবে পরিচিত ছিলেন।
এর পর উল্লেখিত ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলা চলছিল। তাঁর কাছে তিন বছরের আয়কর রিটার্ন, ২০১২-২০১৩ সালের আরপি ইনফো সিস্টেমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত লেনদেন এবং ওই কোম্পানির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।ইডির দাবি, ২০২১-এর ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে তলব করা হয়। আগের দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর হাজিরা দেন ব্যবসায়ী। তিনি অবশ্য এ ব্যাপারে ইডির বিরুদ্ধে অভিসন্ধিমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।
এর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের তদারকির জন্য একটি কমিটি তৈরি করে ২০২২-এর মে মাসে। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় ওই ব্যবসায়ীকে। যদিও কিছু প্রশ্ন ওঠায় সঙ্গে সঙ্গে এই দায়িত্ব থেকে তিনি সরে যান। বিষয়টি নিয়ে টুইটারে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এর পর ’২২-এর ১৬ আগস্ট ইডি এবং আয়কর বিভাগের দুটি দল তাঁর বাড়ি ও অফিসে হানা দেয়। তাঁর অফিসের কাজে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা টানা বাধা সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে ওই টিভি চ্যানেলের পক্ষ থেকে।
শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তের একটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন খারিজের খবর শনিবার প্রকাশ্যে আসে। যদিও অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠমহলের তরফে গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করা হয়েছে।