কলকাতা, ৯ জুন (হি. স.) : উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জোড়া মামলা করল রাজ্য। একটি মামলা সিট গঠনকে কেন্দ্র করে। অন্যটি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব নিয়ে। আগামী সোমবার দু’টি মামলার শুনানি রয়েছে।
নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ। এই নিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়। অভিযোগ ওঠে নাবালিকার দেহ পুলিশ প্রকাশ্যে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। পরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় থানায়। এদিকে থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযানে নেমে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই বিশেষ তদন্তকারী দলে ছিলেন বর্তমান আইপিএস দময়ন্তী সেন এবং দুই প্রাক্তন আইপিএস উপেন বিশ্বাস ও পঙ্কজ দত্ত। সিটকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে। যা শুনে বৃহস্পতিবার অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। বিচারপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটকে পুলিশ সাহায্য করছে না বলে অভিযোগ উঠছে। ফলে বলতে হচ্ছে, রাজ্য নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছে। সিট যাতে কাজ করতে না পারে সেই চেষ্টা করছে রাজ্য। এবার কি সিবিআইকে তদন্তভার দিলে ভাল হবে?’
ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যের রিপোর্ট তলব করেছিলেন বিচারপতি। তিনি জানিয়েছিলেন, এই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা বিস্তারিত আদালতকে জানাতে হবে। বিচারপতির এই দুই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জোড়া মামলা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী সোমবার দু’টি মামলার শুনানি রয়েছে।