মুজফ্ফরপুর, ২ মে (হি.স.): বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে, বাড়িতে আগুন লেগে একই পরিবারের ৪টি শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন ৬ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অতি আশঙ্কাজনক। একই সঙ্গে আহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। সবাই এসকেএমসিএইচে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের সময় গোটা পরিবার ঘুমিয়ে ছিল। মুজফ্ফরপুর জেলার রামদয়ালূ রেল স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে, সদর থানা এলাকার সুস্তা পঞ্চায়েতে বসবাসকারী নরেশ রামের বাড়িতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারের সদস্যরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করলেও শিশুরা আটকে পড়ে। যে কারণে ৪টি শিশুর মৃত্যু হয়।
দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন আগুন নিভিয়ে
পুলিশ ও দমকল জানিয়েছে, আগুন দেখতে পাওয়া মাত্রই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান, পাশাপাশি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।খবর পাওয়া মাত্রই এসডিএম, ডিএসপি টাউন-সহ একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। একই সঙ্গে দমকলের ছ’টি ইঞ্জিনকে সাহায্যের জন্য ডাকা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। যদিও মৃতদেহগুলি পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নরেশ দিল্লিতে থাকেন এবং শ্রমিকের কাজ করেন।
আগুন নেভানোর চেষ্টায় ঘর থেকে বের হতে দেরি হয়
পরিবারের সদস্য মুকেশ রাম জানান, পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সময় আগুন লেগে যায়। আমরা জল নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করি। কিন্তু তা করতে খুব দেরি হয়ে যায়। আমরা চারদিক থেকে আগুনে ঘেরা ছিলাম। নিহতদের মধ্যে রয়েছে নরেশ রামের মেয়ে সোনি কুমারী (১৭), অমৃতা কুমারী (১২), কবিতা কুমারী (৮) এবং শিবানী কুমারী (৬)। আহতরা হলেন রাকেশ রামের স্ত্রী বেবী দেবী (৩০), প্রকাশ কুমার (৮), আকাশ (৪), বিকাশ কুমার (৭)। এছাড়াও মুকেশ রামের সন্তান কিষাণ কুমার (১০) এবং মনীষা (১৭)। সিও মুশাহারী (মুজফ্ফরপুর) সুধাংশু শেখর বলেছেন, সোমবার রাত ১২টা নাগাদ রামদয়ালু রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি বস্তিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য তাৎক্ষণিক সাহায্য দেওয়া হবে।