আগরতলা, ২৫ এপ্রিল(হি.স.) : প্রয়াত হলেন ত্রিপুরার প্রথম পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপক হিমাংশু মোহন চৌধুরী। আজ তিনি আগরতলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দুই কন্যা ও আত্মীয় পরিজন রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক(ডা.) মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক সহ বহু বিদ্বজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন। সোনামুড়া মহকুমা আধিকারিক পদে কর্মরত অবস্থায় শ্রেষ্ঠ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯৭১ বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধে বহু শরণার্থীদের ত্রাণ, আশ্রয় এবং অত্যাবশ্যকীয় সহায়তা প্রদানের উজ্জ্বল নজির রেখেছিলেন তিনি। তাঁর ওই উদারচেতা মনোভাবের জন্য ভারত সরকার ১৯৭২ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সন্মানিত করেছিল।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ত্রিপুরার সোনামুড়া সীমান্তে লক্ষাধিক শরণার্থীকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়ে হিমাংশু মোহন চৌধুরী ভারত-বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ওই সময়ে শ্রী চৌধুরী ছিলেন সোনামোড়ার এসডিও। তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের অনবদ্য বন্ধুর সম্মানে ভূষিত করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এসডিও হিমাংশু মোহন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দিন আহমেদের পরিবার। তাঁর সেবার কথা এখনো ভুলেনি ওই পরিবার। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রয়াত তাজ উদ্দিন আহমেদের কন্যা তৎকালীন বাংলাদেশের এমপি সেমিন হোসেন রিমি আগরতলায় এসে হিমাংশু মোহন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের হয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভূগছিলেন। তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এবং তাঁর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছিলেন। কিন্তু, বার্ধক্যজনিত রোগে আজ তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে বহু গুণমুগ্ধরা হাসপাতালে ছুটে গেছেন। মৃতদেহ তাঁর বড়দোয়ালিস্থিত বাসভবনে আনার পর প্রচুর মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেছেন।
এদিন ত্রিপুরার প্রথম পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপক হিমাংশু মোহন চৌধুরীর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষ প্রশাসক হিসাবে হিমাংশু মোহন চৌধুরী সুপরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্ব পালন এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যই দীর্ঘকাল স্মরণে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে আমরা একজন কৃতি সন্তানকে হারালাম। শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত হিমাংশু মোহন চৌধুরীর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতি মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকও। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ত্রিপুরার প্রথম পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপক হিমাংশু মোহন চৌধুরীর মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত শোকাহত। তাঁর পরলোকগমন আমাদের রাজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি । আমি ব্যক্তিগত ভাবেও হারালাম একজন অভিভাবককে। ঈশ্বর তাঁর আত্মার সদগতি করুক। পরিবার,পরিজনদের প্রতি রইল আমার সমবেদনা।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, তাই ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় প্রয়াত হিমাংশু মোহন চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজকেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
2023-04-25

