কলকাতা, ২ এপ্রিল(হি.স.) : শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ে দুর্গাপুরের ব্যবসায়ী রাজু ঝাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র নিশানায় ইডি-সিবিআই। টুইটে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, ইডি-সিবিআই দু’টি রাজনৈতিক দলের মতো কাজ করছে। কেন্দ্রে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে জোট সরকারে রয়েছে, তাই স্রেফ বিরোধীদের বিরুদ্ধে কাজ করছে দুই তদন্তকারী সংস্থা।
পরপর বেশ কয়েকটি টুইট করে বাবুল সুপ্রিয়র বিস্ফোরক দাবি, তৎকালীন কয়লামন্ত্রীদের কাছে যাদের বিরুদ্ধে অনেক ‘তথ্য’ দিয়েছিলাম, স্বয়ং কয়লমন্ত্রীর সঙ্গে সেই সব কয়লা মাফিয়াদের আলাপ করানো হচ্ছে। বাবুলের প্রশ্ন, তাঁরা ‘শুদ্ধ’ হচ্ছে কীভাবে? বাবুলের অভিযোগ, কৈলাস ও দিলীপের হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজু ঝাঁ। প্রথম টুইটে তাঁর দাবি, রাজু ঝাকে নিয়েই তাঁর সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির কিছু নেতার চূড়ান্ত মতবিরোধ হয়। সঙ্গে বাবুলের খোঁচা, “রাজুকে ঘটা করে বিজেপিতে যোগদান করায় দিলীপ ঘোষ ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এবার এরা বলবে ‘চিনি না’!” শুধু কৈলাস-দিলীপ নয়, রাজ্যের মন্ত্রী নিশানা করেছেন বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুইকেও। তাঁর দাবি, রাজুকে বিজেপিতে আনতে মধ্যস্থতা করেছিলেন লক্ষ্মণই। বাবুলের আরও প্রশ্ন, “এই সমস্ত দুষ্টু লোকরা কীভাবে ইডি-সিবিআইয়েক তালিকা থাকে উধাও হয়ে যাচ্ছে? এর কোনও যুক্তিযুক্ত জবাব দিতে পারবে বিজেপি?”
সূত্রের খবর, রাজু ঝাঁ আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় কয়লা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। গরু পাচারের কিংপিন আবদুল লতিফের সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে সূত্রের দাবি। সিপিএমের হাত ধরে উত্থান। তবে সিবিআই-ইডির নজরে পড়তেই তাঁর রাজনৈতিক কাজকর্ম অনেকটা কমে আসে। বরং সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে নির্বাচনের আগে দিলীপ ঘোষের সভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ভোটের আগে জান লড়িয়ে দিয়েছিলেন রাজু ঝাঁ। তবু টিকিট পাননি তিনি। তারপর থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন রাজু। সিআইডির হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন রাজু।
এ প্রসঙ্গে লক্ষ্মণ ঘড়ুই জানিয়েছেন, বাবুল সুপ্রিয় এখন দলে নেই। তাঁর কথার কোনও মূল্য নেই। তবে রাজু হত্যাকাণ্ডে যে রাজ্য বিজেপির উপর চাপ বাড়ল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

