বদরপুর (অসম), ৩০ মার্চ (হি.স.) : রিজার্ভে ক্লোজ করা হয়েছে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর থানার ওসি চন্দন গোস্বামীকে। স্থানীয় জনতার অভিযোগ এবং সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে গতকাল রাতে সংঘটিত ঘটনার পর রাত প্রায় ১১টায় তাৎক্ষণিকভাবে কাৰ্যকরযোগ্য ওসি চন্দন দাসকে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছেন করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস। মূলত সদর ডিএসপি গীতার্থ দেবশর্মা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ সুপার ওসি চন্দনকে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। চন্দন গোস্বামীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নিলামবাজার থানার সাব-ইনস্পেক্টর সেকেন্ড অফিসার দীপেন কলিতাকে।
গতকাল বুধবার রাতে আচমকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর শহর। রমজানের তারাবি নামাজ শেষে হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছিল রেলশহর। পুলিশ এবং জনতার খণ্ডযুদ্ধে বদরপুর শহরের পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায়। কোনও এক মামলার অভিযুক্তকে ধরে আনায় সহস্রাধিক জনতা থানা ঘেরাও করেন। ইত্যবসরে বদরপুর থানার ওসি চন্দন গোস্বামীর ওপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তাল বিক্ষোভ সংগঠিত করেন উত্তেজিত জনতা। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে এক সময় শূন্যে গুলি চালাতে হয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থেকে বদরপুরে ছুটে আসেন সদর ডিএসপি গীতার্থ দেবশর্মা। তিনি হাতে মাইক নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে মাইকযোগে তিনি থানার ওসি গোস্বামীকে ক্লোজ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে প্রশমিত হয় উত্তেজনা। উল্লাসে মেতে ওঠেন থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীরা।
ঘটনার সূত্রপাত পুরনো একটি মামলার আসামিকে ধরতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। পুরনো একটি মারামারিজনিত মামলায় অভিযুক্ত রুহুল আমিন শহরের এসেছে, এই খবর পেয়ে তাকে ধরতে অভিযানে নামেন ওসি চন্দন গোস্বামী (বিদায়ী)। অভিযুক্ত রুহুল আমিনকে বদরপুরের চৌরঙ্গী থেকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তের সাঙ্গোপাঙ্গ সহ বিশাল মব পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। তখন পুলিশকে বাধ্য হয়ে শূন্যে গুলি ছুঁড়তে হয়। অভিযোগ, বদরপুর বাজার চৌরঙ্গী এলাকায় একটি মাংসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে আটমকা পুলিশ দলের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় অভিযুক্ত রুহুল আমিন। রমজান মাসের তারাবির নামাজের পর মুহূর্তে সংগঠিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্ত মধ্যশহর অশান্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে হঠাৎ করে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। অন্যদিকে মুহূর্তের মধ্যেই সহস্রাধিক জনতা থানা ঘেরাও করার পাশাপাশি বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। ওসি চন্দোন গোস্বামীকে বদলি করার দাবি সংবলিত একাধিক স্লোগান দিয়ে তাঁরা উত্তপ্ত করে তুলেন এলাকা। ফলে জাতীয় সড়কে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। ইত্যবসরে রেলশহরে মোতায়েন করা হয় আধাসামরিক বাহিনী।
জানা গেছে, মারামারিজনিত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত রাহুল আমিনকে বদরপুর থানা থেকে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের নোটিশকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো ওসির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে নালিশ জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি যাতে বিগড়ে না যায় তার জন্য লাউড স্পিকারে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘন ঘন আহ্বান জানান খোদ ডিএসপি গীতার্থ দবশর্মা। দফায় দফায় বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। স্থানীয়রা ডিএসপিকে কাছে পেয়ে ওসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। এর পরই বিতর্কিত ওসিকে ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাত প্রায় এগারোটায় বদরপুর চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ডিএসপি শর্মা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি মেনে ক্লোজড করা হয়েছে ওসি চন্দন গোস্বামীকে। একটি মামলায় অভিযুক্তকে আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা রেজিস্টার করা হয়েছে। এতে পুলিশের তদন্ত যথারীতি চলবে, জানান ডিএসপি সদর।
এদিকে করিমগঞ্জের পুলিশ সুপার পার্থপ্রতিম দাস জানান, বদরপুরের ওসিকে ক্লোজড করার পাশাপাশি ঘটনার আরও তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য গুয়াহাটিতে রাজ্যের পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট করা হবে। অন্যদিকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিলামবাজার থানার সাব-ইনস্পেক্টর দীপেন কলিতা বদরপুর থানার অন্তর্বর্তীকালীন ওসি হয়ে থাকবেন।
প্রসঙ্গত অবাঞ্ছিত ঘটনার পেছনে তৃতীয় শক্তির হাত রয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ তুললেও বদরপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করছেন বহুজন।

