ভারতীয় নিৰ্বাচন কমিশনের নিৰ্দেশিকার ভিত্তিতে চলছে ডিলিমিটেশনের কাজ, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্ৰী

গুয়াহাটি, ২০ মার্চ (হি.স.) : অসমের বিধানসভা এবং লোকসভা এলাকার সীমানা পুনর্নিৰ্ধারণ (ডিলিমিটেশন)-এর কাজ ভারতীয় নিৰ্বাচন কমিশনের ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বরের ২৮২/এএস/২০২২(ডেল) নম্বর নির্দেশ-পত্রের ভিত্তিতে চলছে। আজ সোমবার বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক রেকিবউদ্দিন আহমেদের ডিলিমিটেশন সম্পর্কিত এক প্ৰশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

বিধায়ক রেকিবউদ্দিন আহমেদের প্ৰশ্ন ছিল, কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন এলাকার সীমানা নিৰ্ধারণ করা হবে ? নিৰ্বাচন দফতরের মন্ত্ৰীর হয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা বলেন, ভারতীয় নিৰ্বাচন কমিশন বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন এলাকার সীমানা নিৰ্ধারণ করে। বিধায়কের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্ৰী আরও বলেন, ভারতের নিৰ্বাচন কমিশন অসমের মুখ্য নিৰ্বাচনী আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে নিৰ্বাচন কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নিৰ্ধারণ প্ৰক্ৰিয়া চালাতে হবে। এই মাসের আগামী সপ্তাহে নিৰ্বাচন কমিশন আসবে। অসমে এসে এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে৷ এর সঙ্গে রাজ্য সরকার কোনও অবস্থাতেই জড়িত নয়৷ আমাদের কাজ শুধুমাত্র তথ্য প্রদান করা।

মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শর্মা সঙ্গে বলেন, খবরের কাগজগুলিতে একটি খসরা সবসময় প্ৰকাশ করে থাকে৷ সংবাদ মাধ্যমে মুখরোচক খবর প্ৰকাশ হয়েই থাকে৷ এ সব সত্যের ওপর প্ৰতিষ্ঠিত নয়৷ নির্বাচন কেন্দ্রগুলির মানুষজনকে ন্যায় দেওয়া দরকার৷ নিৰ্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এ সব প্ৰতিষ্ঠিত নয়৷ এক কথায় সীমানা পুনর্নিৰ্ধারণের ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, কোনওভাবেই রাজ্য সরকার জড়িত নয়, বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী।

অন্যদিকে এনআরসি-র জন্য নির্বাচন ক্ষেত্রের সীমানা পুনর্নিৰ্ধারণ প্ৰক্ৰিয়া বন্ধ ছিল না বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা বলেন, কংগ্ৰেস সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলাজনিত কারণে প্ৰক্ৰিয়াটি শুরু করা উচিত নয় বলে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা বলেছি, এখন এ ধরনের কোনও সমস্যা নেই৷

প্রসঙ্গক্রমে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, রাজ্য সরকারের কাছে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া কবে কখন শেষ হবে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই।
এদিকে একটি সম্পূরক (সাপ্লিমেন্টেরি) প্রশ্নে কংগ্রেস বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির পর-পরই রাজ্যে জেলার সংখ্যা পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় ‘তাড়াহুড়ো’ করার কারণ জানতে চেয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর বিজ্ঞাপন জারি করেছিল এবং তা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি। এই সময়কাল প্রদান করা হয়েছিল যাতে সরকার প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য সীমানা পরিবর্তন করতে পারে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গেই ড, শর্মা বলেন,, গোটা দেশের জন্য প্রক্রিয়াটির ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হলে পরে আরেকবার সীমামা পুনর্নির্ধারণ হতে পারে।