স্ফুলিঙ্গের বিজয় রথ থামিয়ে সাফল্যের আশা জিইয়ে জেসিসি-র

স্ফুলিঙ্গ:-‌ ১৫৮/১০(৩৪.১)

জেসিসি:-‌ ১৬৪/‌৯(৪১.৩)

ক্রীড়া প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ মার্চ।।থমকে দাড়ালো অশ্বমেধ যজ্ঞের বিজয় রথ। বৃহস্পতিবারই খেতাব নিশ্চিত হয়ে যেতো স্ফুলিঙ্গ ক্লাবের। যদি এদিন জে সি সি-‌র বিরুদ্ধে জয় পেতে পারতো। এদিন পরাজিত হওয়ায় পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে দীপক ভাটনগরের দলের ছেলেদের। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে এদিন  জে সি সি অর্থাৎ জয়নগর ক্রিকেট ক্লাব ১ উইকেটে পরাজিত করে স্ফুলিঙ্গ ক্লাবকে। প্রীন্স মৌর্যের বিধ্বংসী স্পিনের ভেলকিতে এদিন শুরু থেকেই স্ফুলিঙ্গের ব্যাটসম্যানদের উপর ঝাঁকিয়ে বসেছিলো জে সি সি। খেতাবের দাবিদার দলকে ১৫৮ রানে গুটিয়ে গুটি গুটি পায়ে জয়ের দিকে এগিয়ে চলছিলো জে সি সি-‌ও। কিন্তু জয়দীপ ভট্টাচার্য পর পর দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচকে নাটকীয় মোড়ে নিয়ে আসেন। ওই সময় উত্তেজনায় থরথর করে কাপছিলেন দুই শিবিরের রিজার্ভ ব্যাঞ্চে থাকা ক্রিকেটার সহ কর্তারা। শেষ পর্যায়ে বিশাল গৌড় ঠাকুর সীমানার বাইরে বল পাঠাতেই জে সি সি কাঙ্খিত জয় পেয়ে যায়। পাশাপাশি প্রথম লিগে পরাজয়ের বদলাও নিলো সুমধুর ভাবে। এদিন সকালে টসে জয়লাভ করে প্রথমে ব্যাট নিয়ে স্ফুলিঙ্গ ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৫৮ রান করতে সক্ষম হয়। স্ফুলিঙ্গের কোমড় ভাংতে এদিন মুখ্য ভূমিকা নেন জে সি সি-‌র দুই স্পিনার প্রীন্স মৌর্য এবং তুষার সাহা। দুজনের ভেলকিতে কার্যত কুপোকাৎ হয়ে পড়ে স্ফুলিঙ্গ। এবং ৩৪.‌১ ওভার ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫৮ রান করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে জয়দীপ বনিক ৭৩ বল খেলে ৩ টি বাউন্ডারি ও ২ টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৫২,বিক্রম কুমার দাস ৪৩ বল খেলে ৪ টি বাউন্ডারি ও ১ টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৩, শ্যাম শাকিল গণ ১৬ বল খেলে ১২ রান করেন। এছাড়া দল অতিরিক্ত খাতে পায় ২০ রান। ‌জে সি সি-‌র পক্ষে প্রীন্স মাউরা (‌৫/‌৪০) এবং তুষার সাহা (‌৩/‌৩০) সফল বোলার। জবাবে খেলতে নেমে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দল ৫১ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। দলের পক্ষে জয় কিষান সাহা ৯৯ বল খেলে ৫ টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৮,রিমন সাহা ৭০ বল খেলে ৪ টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪১, অমরেশ দাস ১১ বল খেলে ২ টি বাউন্ডারি ও ১ টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১৫ (‌অপ:‌) এবং রোহিত ঘোষ ২৭ বল খেলে ১ টি বাউন্ডারি ও ১ টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ‌১৪ রান করেন। রিমন এবং জয়কিষান পঞ্চম উইকেটে ৭৫ রান যোগ করে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। তখন ভাবা যাচ্ছিল সহজেই জয় পাবে জে সি সি। কিন্তু জয়দীপ ভট্টাচার্য এক সময় সব হিসাবে গুলিয়ে দিচ্ছিলেন। পরপর ৩ উইকেট তুলে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসে মাঠ ছাড়েন বিশ্বজিৎ পালের ছেলেরা। স্ফুলিঙ্গের পক্ষে জয়দীপ ভট্টাচার্য (‌৩/‌২১) সফল বোলার।‌ বিজয়ী জেসিসি-র প্রিন্স পায় প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের খেতাব।