ঝাড়গ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ( হি. স.) : আগুন পোহানোর সময় বাড়ির সামনে হাতি শুঁড় দিয়ে তুলে আছাড় মেরে, পা দিয়ে পিষে মারল এক ব্যক্তিকে। সোমবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে গিধনী রেঞ্জের শালিকা এলাকায়।
মঙ্গলবার বনদফতর সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সোনা খেড়ওয়াল (৪৮)। বাড়ি ওই গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সোমবার রাতে বাড়ির সামনে সোনা খেওয়াল সহ তিন ব্যক্তি আগুন পোহাচ্ছিলেন। সেই সময় পিছন দিক থেকে হঠাৎ করে একটি হাতি তাদের সামনে চলে এলে দুজন ব্যক্তি কোনো রকম ভাবে হাতে প্রাণ নিয়ে দৌড়ে পালাতে পারলেও সোনা খেওয়ালকে শুঁড় দিয়ে ধরে ফেলে একটি হাতি। এরপরেই শুঁড় দিয়ে আছাড় মেরে, পা দিয়ে পিষে দেয়। ওই সময় স্থানীয় মানুষজনেরা হাতিটিকে তাড়া করলে স্থানীয় জঙ্গলে চলে যায়। এরপর স্থানীয় মানুষজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথে মৃত্যু হয় তার। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পৌছালে সেখানকার চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষনা করেন। এই ঘটনার পরেই গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই এলাকায় একটি হাতি সারা বছর ধরে তান্ডব চালায়। ওই দিন রাতেই ডুমুরিয়া হাইস্কুলের গেট ভেঙ্গে প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করে ওই হাতিটি। সেখান থেকে বাসিন্দারা হাতিটিকে তাড়া করলে কানিমহুলীর জঙ্গলে প্রবেশ করে। অন্যদিকে জামবনী রেঞ্জের শাবলমারা এলাকায় বিশ্বনাথ পাতরের বোরো চারা ধান খেয়ে পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করে তিনটি হাতি। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ জামবনী ও গিধনী রেঞ্জের জঙ্গল লাগুয়া গ্রাম গুলিতে সারা বছর ধরে হাতির তান্ডবে ধান,সবজি ও ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর করে হাতি। যে পরিমাণে হাতি ক্ষয়ক্ষতি করে সে পরিমানে বনদফতর ক্ষতিপূরণ দেন না বলেও অভিযোগ করেন কৃষকেরা। এদিকে এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিপূরণের প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেন বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা, ও ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ডিএফও শেক ফরিদ। এবিষয়ে রাজ্য বনদফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন ” ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।বনদফতর ওই পরিবারের পাশে রয়েছে। বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়ার জন্য।চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই ওই পরিবারকে বনদফতরের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। “অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার পর বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা বলেন ” আমরা এদিন হাতির হানায় নিহত পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরনের চেক তুলে দিয়েছি। ওই পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। ” ঝাড়গ্রামের ডিএফও শেক ফরিদ বলেন ” এদিন ওই পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। “

