করিমগঞ্জ (অসম), ৩১ ডিসেম্বর (হি.স.) : করিমগঞ্জ জেলার নিলামবাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানগর শিববাড়ির পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘সুবর্ণবর্ষ ও ৫০-তম হরিনাম যজ্ঞ’-এর শুভ সূচনা হবে আগামী রবিবার। পক্ষকালীন ধর্মানুষ্ঠানের শুভসূচনা করতে আসছেন কর্ণাটক শ্রীশ্রী যোগানন্দেশ্বর সরস্বতী মঠের শঙ্করাচার্য।
এদিন সকাল নয়টায় ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হবে। অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে বেশ কিছু কার্যসূচি হাতে নিয়েছে মন্দির পরিচালন কমিটি। পক্ষকালীন এই উৎসবের অঙ্গ হিসেবে সোমবার মহাদেবের পূজার্চনা অনু্ষ্ঠিত হবে। তার পর এক এক করে থাকবে শিব-বন্দনা, সুবর্ণবর্ষ স্মৃতিফটক উদ্বোধন, পদাবলী কীর্তন, বাবাহরের সেবা ও ত্রিনাথের কীর্তন, সুবর্ণবর্ষ প্রদীপ প্রজ্বলন ও মহিলা মিলোনৎসব।
২২ পৌষ থেকে ২৯ পৌষ পর্যন্ত চলবে শ্রীমদ্ভাগবত মহাযজ্ঞ। পরিচালনায় থাকবেন সুদূর শ্রীধাম বৃন্দাবন থেকে আগত শ্রীল ১০৮ রামদাস বেদান্ত শাস্ত্রীজি (সপ্ততীর্থ) এবং শ্রীমুরলীধর শাস্ত্রীজি (ব্যাকরণ আচার্য), সঙ্গে থাকবেন অন্যান্য পারিষদ ও কীর্তনীয়াগণ।
প্রতিদিন সকাল ৭-টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ্রীমদ্ভাগবতের মূল শ্লোক পাঠ করা হবে। ওই শ্লোকেরই বাংলা রসবর্ষিণী ব্যাখ্যা হবে বিকাল ৪-টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিদিন থাকবে ব্যাখ্যান্তে আরতি ও আনুকূল্য প্রসাদ বিতরণ।
৩০ পৌষ থাকবে শ্রীনামযজ্ঞের শুভ অধিবাস। ১ মাঘ হবে অষ্টপ্রহর নামযজ্ঞ ও মধ্যাহ্ণকালীন মহাপ্রসাদ বিতরণ। ২ মাঘ নগর পরিক্রমা, দধিভাণ্ড ভঞ্জন, মোহান্ত বিদায় ও মহাপ্রসাদ বিতরণ। শ্রীনামযজ্ঞে অংশগ্রহণ করবেন বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তের কীর্তনীয়াগণ।
উল্লেখ্য, নিলামবাজারের পার্শ্ববর্তী গ্রাম বিদ্যানগরে ৬ আষাঢ় ১৩৮০ বঙ্গাব্দে (২১ জুন ১৯৭৪ ইংরেজি) দেবাদিদেব মহাদেবের আশীর্বাদে শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে বছরেরই পৌষ সংক্রান্তিতে অধিবাস ও ১ মাঘ (১৬ জানুয়ারি ১৯৭৪ ইংরেজি) মহাপ্রভুর কৃপায় ও ভক্তদের ঐকান্তিক ইচ্ছায় শ্রীনামযজ্ঞ শিববাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই প্রতিবছর ১ মাঘ শ্রীনামযজ্ঞ অবিরতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এবার ৫০-তম বর্ষে উপনীত হচ্ছে। মহাপ্রভুর আশীর্বাদ ও তরুণ-বৃদ্ধ সবার নিরলস প্রয়াসেই সুদীর্ঘ এই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে পেরেছেন। মহাপ্রভুর পথ অনুসরণ করেই প্রতিবছর উৎসবের দুমাস আগে থেকে গ্রামে-গ্রামে বেরিয়ে পড়েন নামযজ্ঞের নিমন্ত্রণ দিতে এবং ভিক্ষা করতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি