বীরভূম, ৩০ ডিসেম্বর (হি. স.) : ডঃ সুকান্ত মজুমদারকে ‘বিজেপির ট্রেনি রাজ্য সভাপতি’ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘লাউডগা’ বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এদিন মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
শুক্রবার নলহাটির সভায় কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপির ট্রেনি রাজ্য সভাপতি একটা লাউডগাকে কেউটে বলে বাজারে ছাড়তে চাইছে। জেলা থেকে বিজেপিকে হারিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের জবাব দিতে হবে।” বিজেপি নেতার আক্ষেপ কমাতে পরবর্তী সভার আগে জেলাজুড়ে তাঁর জন্য রুটি আর পাটালি গুড় রাখার নিদান দিলেন কুণাল। নলহাটির স্কুল মাঠে বিজেপির পালটা সভায় মাঠ ভরতি জনসমাবেশে অনুব্রত মণ্ডলের সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই ভোট করার আবেদন জানান তৃণমূল নেতারা।
একই সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নলহাটির মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামী দুকড়িবালার রক্তে গড়া। এখানে গদ্দারির কোনও জায়গা নেই। তাই যারা গদ্দার তাদের কোনও সমর্থন দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, ভরা জনসভা থেকে তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দুর বিজেপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের অডিও টেপ শুনিয়ে কর্মী সমর্থকদের সামনে কুণাল ঘোষ বলেন, কে গদ্দার? অনুব্রত মণ্ডলের জেলায় আসার পথে শুভেন্দু নাকি গুড় বাতাসা, নকুলদানা দেখতে পাননি বলে জানিয়েছিলেন।
কর্মী সমর্থকদের তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন , “কোনও পাতলা গুড় বা ঝোলা গুড় নয়, একেবারে পাটালি, মোটা দেখে পাটালি তুলে রাখবেন।” বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে তাঁর সাংগঠনিক কৃতিত্বের জন্য বিজেপি কার্যত ভয় পেত। তাই ‘বাঘকে খাঁচায় রেখে দুটো শিয়ালকে পাঠিয়েছে এখানে’। বলেন কুণাল।
বিজেপিকে আগামী লোকসভায় ক্ষমতাচ্যুত করারও ডাক দেন কুণাল ঘোষ। বলেন, “ওরা কেন্দ্রে আছে। ক্ষমতা গেলে নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ, তাঁদেরও হেফাজতে নেবে সিবিআই, ইডি।” এরপরই জনতার উদ্দেশে হুঙ্কার দেন, “আমরা দেখতে চাই ২০২৪ সালে লালকেল্লায় বাংলার মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাড়ি পরে দেশের জাতীয় পতাকা তুলছেন। তার জন্য তৈরি থাকুন।”

