কলকাতা, ২৬ নভেম্বর (হি. স.) ; বেনামি আবেদনের মামলায় রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেন, আমি প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে বলব, তৃণমূলের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য। এই নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূলও। চলছে রাজনৈতিক তরজা।মুখর হয়েছেন নেটানাগরিকরা।
একটি বহুল প্রচারিত অনলাইন মাধ্যমের পোস্ট দেওয়ার তিন ঘন্টা বাদে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার হয়েছে যথাক্রমে ৬৩০, ১৭৭ ও ১০। তাপস মণ্ডল লিখেছেন, “আপনি বিচারক রূপে অবতার। দুর্নীতি দমন করতেই ধরাধামে আপনার আগমন।আপনি অগণিত মানুষের হৃদয়ে বাস করবেন।“ প্রভাত বিহারী নস্কর লিখেছেন, “ফাটা বাঁশে “ওটা “আটকানোর মত অবস্থা এই দলটার। তার ওপর চোরের চিৎকার। খেলা হচ্ছে বটে।“
চিন্ময় মিত্র লিখেছেন, “ফাঁকা কলসি বাজে বেশী, এই মানুষটি একাই কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।এক কাঁপুনিতেই যাকে গদ্দার বলে সবাই সম্বোধন করছিল এখন তাকেই আবার ভাই বলে কাছে ডাকছে। মধ্যিখানে বাংলার মানুষ একেবারে পড়েছে গিয়ে গাড্ঢায়। এখন তার বাপের খোঁজ নেওয়ার ধূম পড়ে গেছে। নিজেকে এখন বাঁচতে হবে যে। বিশ্বজিৎ রায় লিখেছেন, “আপনাকেই একমাত্র বিচার পতি দেখলাম যিনি শাসক দলের চোখে চোখ রেখে নিজের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছেন,আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।“
অন্যদিকে রাজেশ বর্ধন লিখেছেন, “খুব তাড়াতাড়ি প্রমোশন পাওয়া যাতে যায় অথবা অবসরের পরে রাজ্যসভার এমপি যাতে হতে পারে তার চেষ্টা এখন থেকেই বিচার পতি করছেন। তাই এসব বলে গুডবুকে থাকতে চাইছে।“ টিপু সুলতান লিখেছেন, “তৃণমূল বিরোধিতা এজেন্ডা নিয়ে কাজ হলে মুশকিল।”
সূর্যকান্ত নাগ লিখেছেন, “ভাট বকছে গাঙ্গুলি । লোকটা সিপিএম এর দালাল। রাজনৈতিক ভাবে ভোটে হারাতে না পেরে ভুয়ো মামলা করে সিপিএম কমরেড গঙ্গোপাধ্যায় এর সাহায্যে সরকারকে অপদস্থ করতে চাইছে। সুপ্রিম কোর্টৈ জুতো খেয়েছে কাল গঙ্গোপাধ্যায়। ভাট বকার মাঝেই স্থগিতাদেশ এসে যাওয়ায় শুনানিই করতে পারেনি। এই লোকটা ভাট বকা না থামালে এবার রাস্তায় জুতো খাবে। ক্ষমতা থাকলে কোর্টে ভাট না বকে প্রমাণ করতে হবে কজন অযোগ্য চাকরি পেয়েছে। সেটা আজ অবধি প্রমাণ করতে পারে নি। গঙ্গোপাধ্যায় যাদের চাকরী খেয়ে নিয়েছিলো সবাই কাজে জয়েন করে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুক্রবার বলেছেন, “আমি নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনে বলব তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য ! দল হিসাবে তাদের মান্যতা প্রত্যাহার করতে বলব নির্বাচন কমিশনকে! সংবিধান নিয়ে যা ইচ্ছা করা যায় না।” বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে শুক্রবার এমনই মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই সাংবাদিক বৈঠকে করে তীব্র আক্রমণ শানান কুণাল ঘোষ।