হানিফের হ্যাটট্রিক, হাফ-ডজন গোলে বীরেন্দ্রকে ছিটকে ফাইনালে ফরোয়ার্ড

ফরোয়ার্ড-‌ ৬ (‌আফিজ-‌৩, ভিদাল-‌২, রিমা)‌

বীরেন্দ্র-‌০

ক্রীড়া প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ নভেম্বর।। ফাইনালে এগিয়ে চলোর মুখোমুখি হবে ফরোয়ার্ড ক্লাব। এম এল প্লাজা রাখাল শিল্ড প্রাইজমানি নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতার। উমাকান্ত মিনি স্টেডিয়ামে রবিবার দুপুর ২ টায় শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচ। শুক্রবার আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বীরেন্দ্র ক্লাবকে কার্যত হেলায় হারিয়ে দিলো ফরোয়ার্ড ক্লাব। স্কোরবোর্ড দেখলে মনে হবে খুব একটা ভালো ফুটবল খেলা উপহার দিয়েছে ফরোয়ার্ড ক্লাব। কার্যত তা নয়। যে ৬ টি গোল পেলো তার মধ্যে ৪ টি গোলই বীরেন্দ্র ক্লাবের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের ভুলে। ধারে এবং ভারে বীরেন্দ্র থেকে অনেকটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিলো ফরোয়ার্ড। বিপক্ষের দলের শক্তি বুঝে শুরুতেই রক্ষণভাগে ফুটবলার বাড়িয়ে খেলা শুরু করেন বীরেন্দ্র কোচ সুজিৎ ঘোষ। শুরুর ১০ মিনিট বিপক্ষকে মেপে নিয়ে তারপরই আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড কোচ সুভাষ বসু। ১৪ মিনিটে রক্ষণভাগের ফুটবলারদের ভুলে গোল হজম করার পরও বীরেন্দ্র ক্লাবের ‘‌হার না মানা’‌ মানসিকতা সম্পন্ন ফুটবলাররা লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গেলো ম্যাচের নায়ক গোলরক্ষক অলক জমাতিয়া ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েচিলেন বীরেন্দ্র ক্লাবের ফুটবলাররা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সাধন জমাতিয়া-‌রা। জয় পেলেও দলের মাঝমাঠ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকতে হবে ময়দানের লাকি ফরোয়ার্ডের কোচ সুভাষ বসুকে। হয়তোবা প্রথম ম্যাচ বলেই তেমনভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি সুকান্ত জমাতিয়া-‌রা। তবে এগিয়ে চলোর বিরুদ্ধে জয় পেতে হলে মাঝমাঠের ফুটবলারদের গুরু দায়িত্ব নিতেই হবে। আত্মপ্রাশেই এদিন আফিজ বুঝিয়ে দিলেন গোল ক্ষুধা রয়েছে ওই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারটি। আসরের প্রথম হ্যাট্রিকটিও করে নিয়ে নিজের মনোবল বাড়ি নিয়েছেন। ম্যাচ শুরুর ১৪ মিনিটে বামসানার কর্মার করা বল রক্ষণভাগের ফুটবলারদের ভুলে ফঁাকায় পেয়ে ফরোয়ার্ডকে এগিয়ে দিতে ভুল করেননি আফিজ। এর ১৩ মিনিট পর ২৫ গজ দূর থেকে ক্ষেত্র রিমার শট বীরেন্দ্র গোলরক্ষকের হাতের উপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সঙ্ঘবদ্ধ ঈআক্রমন করতেই বারবার গোলের দরজা খুলেছে ফরোয়ার্ডের ফুটবলাররা। ওই অর্ধে হয় ৪ টি গোল। ৫২ মিনিটে ক্ষেত্র রিমার লব করা বলে অফসাইড ট্রেপ করতে গিয়ে আফিজকে ছেড়ে দেন বীরেন্দ্রর ফুটবলাররা। যুযোগ সন্ধানী আফিজ ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেননি।৫৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান আরও বাড়ান দলের দ্বিতীয় বিদেশী ফুটবলার ভিদাল। ৭১ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আফিজ। খেলা শেষ হওয়ার কযেক সেকেন্ড আগে বীরেন্দ্র-‌র জালে শেষ বার বল পাঠান বিদাল। খেলীআ পরিচালনা করেন তাবা রাজু।

ফরোয়ার্ড:‌অমিত, সাবাত, রতন কিশোর, বিনোদ, সিয়াম পুইয়া (‌বুলেমনি-‌৬৭), সুকান্ত, সানা, সাহাজাহান, আফিজ (‌‌জাবেদ -‌৭৭), ভিদাল এবং ক্ষেত্র রিমা (‌এলমিনাও-‌৬১)।‌‌‌