কলকাতা, ২৯ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী সংঘর্ষ ।দুর্গাপুরের কাঁকসা ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করল কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রমেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে কাঁকসা থানার পুলিশ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জখম হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওই সদস্যর বিরুদ্ধে তৃণমূলের অন্য শিবির কাটমানি নেওয়া সহ ভূরি ভূরি অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের প্রাক্তন ও বর্তমান ব্লক সভাপতির অনুগামীদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ব্যাপক গোলমাল হয় গোপালপুরের উত্তরপাড়াতে। ঘটনায় দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। জখম হন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রমেন্দ্রনাথও। তিনি কাঁকসার তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দেবদাস বক্সির অনুগামী বলে পরিচিত। বর্তমান ব্লক সভাপতি ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্যের অনুগামীদের সঙ্গে দেবদাসগোষ্ঠীর গোলমাল চলছে অনেক দিন ধরেই।
শনিবার রমেন্দ্রনাথ দাবি করেন, এলাকার কিছু সুবিধাবাদী মানুষ তৃণমূলের নাম করে কাজ করছে। তিনি একজন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। তিনি এক ব্যক্তিকে তার দোকানের সামনে বারান্দা তৈরি করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তার জন্যই তৃণমূলেরই কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের উপর হামলা করে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে গোপালপুরের উত্তরপাড়া তৃণমূলের ওই গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে আছে। সেই ঘটনায় দুপক্ষের তিন জন জখম হয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের এই ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে আসছে।
রাজ্যের অনেক জেলাতেই পঞ্চায়েত ভোটের মুখে তৃণমূল ব্লকস্তরে সাংগঠনিক রদবদল করেছে। অনেক ব্লক সভাপতিকে সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে। অনেক জায়গায় আবার স্থানীয় বা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করেই ব্লক সভাপতি বদল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেসব নিয়ে বেশ কিছু জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বাড়াবাড়িও চলছে। কাঁকসার ঘটনা তারই উদাহরণ