জাতপাতের ভেদাভেদের উর্ধে উঠে স্বেচ্ছায় রক্তদান হল মানবধর্মের শ্রেষ্ঠ দান : ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : জাতপাতের ভেদাভেদের উর্ধে উঠে স্বেচ্ছায় রক্তদান হল মানবধর্মের শ্রেষ্ঠ দান। এই রক্তদানের মাধ্যমেই একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। যেখানে ধর্ম-বর্ণ-জাতপাতের কোন স্থান থাকেনা। আজ শ্রীশ্রী মহানাম অঙ্গনের ৪১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আশ্রম প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন। এদিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্বেও প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে হলে রক্তদাতার সংখ্যা আরও বেশি হতো ধারণা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ধর্মবিশ্বাসী মানুষ নিজেকে সঠিকভাবে জানার জন্যই মন্দির মঠে যান। কারণ নিজেকে সঠিকভাবে জানার প্রকৃত জায়গা হল এই ধর্মীয় স্থান। শ্রীশ্রী মহানাম অঙ্গন আশ্রম সামাজিক কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই আজ স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে। আগামীদিনেও রক্তদানের মতো নানারকম সামাজিক কর্মকান্ডে এই আশ্রমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, ত্রিপুরায় রক্তদান কর্মসূচি বর্তমানে উৎসবের মেজাজে হয়ে থাকে। বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগত সামাজিক অনুষ্ঠানেও রক্তদানের আয়োজন করে থাকেন। কারণ রক্তদান একটি পবিত্র কাজ। রক্তদানের মাধ্যমে একজন মুমুর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচানো যেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। ফলে চিকিৎসার জন্য রোগীকে এখন বহির্রাজ্যে যেতে হয় না। ত্রিপুরায় বর্তমানে জটিল রোগের চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মহানাম সম্প্রদায়ের সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রীমৎ উপাসকবন্ধু ব্রক্ষ্মচারী মহারাজ বলেন, ১৯৮২ সালে এই মহানাম অঙ্গনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই আশ্রমটি রক্তদানের মতো সামাজিক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে করে থাকে।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা, পুর পারিষদ রত্না দত্ত, নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘের সম্পাদক সুদীপ কুমার রায় এবং সহ সভাপতি রবীন্দ্র চন্দ্ৰ সাহা।