আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর : কিল্লা এডিসি কর্তৃপক্ষ ও গোমতী জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে রাইয়াবাড়িতে অবিলম্বে সর্বদলীয় শান্তি সভা আহ্বান করার জন্য দাবি জানিয়েছে সি পি আই এম এল৷ সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিপরীতে দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমন মিটিং গ্রাউন্ড তৈরি করে বন জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধান করারও দাবি জানানো হয়েছে৷ উদয়পুরে এডিসি কিল্লা সাবজোনালের অন্তর্ভুক্ত রাইয়াবাড়িতে স্থানীয় জনজাতি ও অল্পসংখ্যক বাঙালি মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে বন জমির ভোগদখল সত্ব সংক্রান্ত এই নতুন বিরোধের জন্ম ২০১৯ এ৷ ১৯৯৯ এর ডিসেম্বরে উগ্রবাদী হামলার ফলে উচ্ছেদ হওয়া এই মুসলমান পরিবারগুলিকে ’ রায় কমিশনের সুপারিশে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে বনভূমিতে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল৷ আর এই একই বনভূমি উদ্দশ্যমূলকভাবে ২০১৯ এ আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার স্থানীয় জন জাতিদের মধ্যে বনাধিকার আইনে পাট্টা বিলি করার উদ্যোগ নেয়৷ স্থানীয় শাসক দলের বিধায়কের উদ্যোগে তা সংগঠিত করা হয়৷ তখনই এই বিরোধের জন্ম হয়৷ প্রায়ই বন দপ্তরের কর্মীরা ঐ ভূমি পরিমাপ করতে যায়৷ বারবার বসবাসকারী মুসলমান পরিবারগুলিকে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠায়৷ এই বিবাদমান ভূমিটি হচ্ছে রাধাকিশোরপুর রিজার্ভ ফরেস্ট মৌজার অন্তর্গত ৪/১২ হাল খতিয়ানের ৩০৯৪ হাল দাগের অন্তর্ভুক্ত ১’’২০ একর ও ১’’৬৬ একর ভূমি৷ এর সাথে যৌথ অংশীদারী বনায়নের জেএফএমসি -র সাথে বন দপ্তরের এমওইউ ১৬/০১২০০২এ স্বাক্ষরিত প্রতিশ্রুতি পত্রের অধীনে ৫০ হেক্টর ভূমি নিয়েও বিরোধ আছে৷ যার হাল খতিয়ান ৪/২, সাবেক দাগ নম্বর ৩০৩০, ভূমির পরিমাণ ৫০ হেক্টর৷ এই জেএফএমসি -র সদস্যসংখ্যা মোট ৫৭ জন৷ এর মধ্যে জনজাতি সম্প্রদায়ের ৩৭ জন, বাঙালি মুসলমান ২০ জন৷ উভয় সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে বাঁশ বাগান, সেগুন বাগান, বিভিন্ন ঔষধি গাছের বাগান ও মাছ চাষের জলসম্পদ গড়ে তোলেন৷ কোন উপায় না দেখে অল্পসংখ্যক মুসলিমদের তরফে উদয়পুর দেওয়ানি আদালতে এই বিবাদমান বনভূমির দখল সত্ব নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলার আশ্রয় নেয়৷ এই ৪টি মামলা বর্তমানে স্বাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে বিচারাধীন আছে৷ আবিদ হোসেন, সাজাহান মিঞা,মীর হোসেন,আবদুল হালিম এই চার মামলার বাদীপক্ষ৷
এখন এই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্দশ্যমূলকভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটানো হচ্ছে৷ গত চার বছর ধরে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও বিদ্বেষমূলক লাগাতার প্রচেষ্টার ফলে গতকালের হিংসার ঘটনা ঘটে৷ এই হিংসার ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর৷ একে যেমন প্রশাসনিক উপায়ে প্রতিরোধ করতে হবে৷ তেমনি সাধারণ জনগণের মধ্যে কমন মিটিং গ্রাউন্ড তৈরি করতে হবে৷ যেকোনো মূল্যে এলাকায় উভয় অংশের জনগণের মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হবে৷ উদোর পিন্ডি বুধোর ঘারে চাপানো চলবে না৷ তাই, সিপিআই(এম এল), ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এডিসি কর্তৃপক্ষ ও গোমতী জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে রাইয়াবাড়িতে সর্বদলীয় শান্তি সভা অনুষ্ঠিত করার দাবি জানানো হয়৷ উক্ত বনভূমির ভোগদখল সত্ব নিয়ে এই বিরোধের সুষ্ঠু ও স্থায়ীভাবে সমাধান করার দাবি করছি৷ সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও বিদ্বেষমূলক প্রচেষ্টাকে যেকোন মূল্যে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে৷
2022-09-13