আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য এবং মানসিকতার যথাযথ বিকাশ হলেই উন্নত মানব সম্পদ গড়ে উঠবে। উন্নত মানব সম্পদই পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কারণ আজকের শিশু ও কিশোররাই হচ্ছে আগামীদিনের দেশের সুনাগরিক। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব, সুস্থ কৈশোর অভিযানের তৃতীয় পর্যায়ের রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
তাঁর কথায়, শৈশব ও কৈশোর অবস্থাতেই ছেলেমেয়েদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার প্রকৃত উন্নতি ঘটে। আমাদের দেশের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ শিশু ও কিশোর কিশোরী। শিশু ও কিশোরদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
এদিন তিনি বলেন, স্বাস্থ্যই সম্পদ। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ব্যবস্থা ভালো। তাঁর দাবি, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেই তারা পরবর্তী সময় রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম হবে। এজন্যই মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব, সুস্থ কৈশোর অভিযান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি রূপায়ণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর একযোগে কাজ করছে। এই সরকার রাজ্যের সর্বত্র স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে সচেষ্ট রয়েছে। বিগতদিনে এরকম কর্মসূচি এত ব্যাপক আকারে কখনও আয়োজন করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার মানুষকে সুস্থ রাখতে সর্বদা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে চলছে। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী নেশা থেকে দুরে থাকার জন্য ত্রিপুরার যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, এই কর্মসূচিতে আগামী ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর যে কোনও ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, সকল স্তরের মহাবিদ্যালয়ের উপযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষক শিক্ষিকা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, এমপিডব্লিউ, আশাকর্মীগণ ওষুধ খাওয়াবেন। যারা এই কর্মসূচিতে বাদ পড়বে তাদের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও আশাকর্মীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ খাওয়াবেন।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে ওষুধ খাইয়ে দেন। তাছাড়াও অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধিকারিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করেন তিনি।