করিমগঞ্জ (অসম), ৩১ আগস্ট (হি.স.) : করিমগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কুর্সি একটি ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এ পরিণত হয়ে পড়েছে। আজ কেউ বসছেন, তো-কাল অন্য কেউ। আদালতের নির্দেশে আশিস নাথকে চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান বিমলা শুক্লাবৈদ্য ও আশিস নাথের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। এরই রেশ ধরে মঙ্গলবার ঘটে গেছে এক অবাঞ্ছিত ঘটনা। চেয়ারম্যানের চেম্বারের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে ভাইস চেয়ারম্যান বিমলা শুক্লবৈদ্যের বিরুদ্ধে।
আশিস নাথের বক্তব্য চেম্বারের দরজায় তালা লগিয়ে চাবিটি তিনি সঙ্গে নিয়ে যান। আজ তিনি নিজের চেম্বারের সামনে এসে দেখতে পান দরজার তালা ভাঙা। ভিতরে তাঁর চেয়ারে বসে আছেন বিমলা শুক্লাবৈদ্য। সঙ্গে রয়েছেন জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও।
আশিস নাথ সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি তো নিজের ইচ্ছায় চেয়ারে বসেননি। আদালতের নির্দেশেই তিনি পুনরায় চেয়ারম্যানের কাজ শুরু করেছেন।
আদালতের নির্দেশের কপি তিনি জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং জেলাশাসকের কাছেও তুলে ধরেছেন। তার পরই তিনি চেয়ারম্যানের চেম্বারে তাঁর নির্দিষ্ট চেয়ারে বসেছেন।
আদালতের নির্দেশে একমাসের মধ্যে তিনি ফ্লোর টেস্টের জন্যও প্রস্তুত রয়েছেন, জানান আশিস। এমতাবস্থায় তাঁর চেম্বারের দারজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করার পিছনে কী যুক্তি থাকতে পারে? এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উত্থাপন করেন আশিস।
সিইওকে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করালে, তৎক্ষণাৎ ভাইস চেয়ারম্যান বিমলা শুক্লাবৈদ্য সহ অন্যান্য সদস্যরা চেম্বার ছেড়ে চলে যান বলে জানান আশিস।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান বিমলা শুক্লাবৈদ্য জানান, তিনি দরজার কোনও তালা ভাঙেননি। যেহেতু সরকারি নির্দেশে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, তাই পুনরায় সরকারি নির্দেশ ছাড়া তিনি দায়িত্ব কীভাবে ছেড়ে দিতে পারেন ?
আদালতের নির্দেশ আশিসের পক্ষে গেলেও, সরকারিভাবে জেলা পরিষদে কোনও নির্দেশ আসেনি যে আশিস নাথকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্তি দেওয়া হয়েছে। আজ পর্যন্ত ডিপিসি সহ অন্যান্য সরকারি সভায় উপস্থিত থাকার জন্য জেলাশাসক তাঁকেই নাকি আমন্ত্রণপত্র পাঠাচ্ছেন। তাই তিনি তাঁর দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।
যদি ফ্লোর টেস্টে আশিস নাথ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হন এবং সরকারিভাবে তাঁকে দায়িত্ব সমঝে দেওয়ার কথা বলা হয়, তা-হলে আশিস নাথের হাতে দায়িত্ব সমঝে দিতে তাঁর কোনও আপত্তি থাকবে না বলে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন জেলা পরিষদের ইনচার্জ চেয়ারম্যান বিমলা শুক্লাবৈদ্য।