নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (হি.স.): বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত ভারতের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিয়েছেন। শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ইউ ইউ ললিতকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের ৪৯ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন উদয় উমেশ ললিত। বিচারপতি ইউ ইউ ললিত, বিচারপতি এন ভি রামানার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শুক্রবারই শেষ হয়েছে।
বিচারপতি ললিতের কার্যকাল হবে খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র ৭৪ দিনের। ৮ নভেম্বর তিনি অবসর নেবেন। বিচারপতি হিসেবে ইউ ইউ ললিত যুগান্তকারী তিন তালাক মামলা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেন। মুম্বইয়ের সরকারি আইন কলেজ থেকে পড়াশোনার পর তিনি ১৯৮৫ পর্যন্ত বম্বে হাইকোর্টে ছিলেন। ১৯৮৬-তে তিনি যান দিল্লি।
নিয়ম মেনে ভারতের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি ললিতের নাম আগেই প্রস্তাব করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা। প্রধান বিচারপতি হিসাবে ললিতই হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী থেকে সরাসরি সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হলেন। এর আগে ১৯৬৪ সালের মার্চ মাসে বিচারপতি এসএম সিকরি শীর্ষ আদালতের আইনজীবী থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি হন। বিচারপতি ললিত একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন। ২০১৪ সালের ১৩ অগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার পর থেকে বিতর্কিত ‘তিন তালাক’ মামলা-সহ একাধিক যুগান্তকারী মামলায় রায় দিয়েছেন ললিত। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ ২০১৭ সালের অগস্টে ‘তিন তালাক’ প্রথাকে ‘অকার্যকর’, ‘অবৈধ’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেয়। এই সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্য ছিলেন ললিত। তিন জন বিচারপতি বিশেষ সম্প্রদায়ের এই বিবাহবিচ্ছেদ প্রথার বিপক্ষে রায় দেন। ললিতও রায় দেন বিপক্ষেই। বিচারপতি ললিত ১৯৫৭ সালের ৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালের জুন মাসে তিনি আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বম্বে হাই কোর্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর পর ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে একজন বরিষ্ঠ আইনজীবী হিসাবে মনোনীত করা হয়।