অমরপুর(ত্রিপুরা), ২৭ আগস্ট (হি. স.) : ভারত সারা বিশ্বের কাছে সনাতন জীবনধারা প্রচারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই দেশ একসময় আগ্রাসনের দ্বারা বিদীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু তবুও এখনো একতা ও সহানুভূতির দর্শনে বিশ্বাস করে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক ডা. মোহন ভাগবত আজ শনিবার ত্রিপুরার গোমতি জেলার অধীনে অমরপুরে সরবং স্থিত শান্তিধামে নবনির্মিত শান্তি কালী মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংকল্প সভায় একথা বলেন।
প্রসঙ্গত, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত শনিবার ত্রিপুরার গোমতি জেলার অধীনে অমরপুরে নবনির্মিত শান্তি কালী মন্দিরের উদ্বোধন করেছেন। ভাগবত ত্রিপুরায় দুই দিনের সফরে এসেছিলেন এবং মন্দির উদ্বোধন করাই তাঁর সফরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন মন্দিরের প্রধান মহারাজ চিত্তরঞ্জন মহারাজ। মন্দিরের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত একটি যজ্ঞে সরসঙ্ঘচালক অংশ নিয়েছিলেন। এদিন তিনি পূজার্চ্চনা এবং স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা হিন্দি এবং ককবরক ভজনে অংশ নিয়েছেন। তিনি চিত্তরঞ্জন মহারাজের ককবরক ভজনের একটি সংকলনও প্রকাশ করেছেন।
এদিন আরএসএস প্রধান বলেন, ভারত এমন একটি দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে যা সনাতন জীবনধারা সম্পর্কে সমগ্র বিশ্বের সামনে উদাহরণ স্থাপন করবে। আমরা একতা ও ভালোবাসায় বিশ্বাসী। সংস্কৃতি, ভাষা এবং পোশাকের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলেও আমরা মানুষে-মানুষে পার্থক্য করি না। আমেরিকা, চীন এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলির বিপরীতে ভারত তার ওজন অন্যদের কাছাকাছি ফেলে না। এই দেশ অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তৈরি করেছে”, তিনি বলেছেন।
সাথে তিনি যোগ করেন, সমগ্র বিশ্বের কাছে সনাতন জীবনধারা প্রচার করার জন্য ভারতকে একটি রাষ্ট্র হিসাবে বেড়ে উঠতে হবে। তাঁর কথায়, আমরা ধর্মান্তরে বিশ্বাস করি না। আমাদের চিন্তাভাবনা উন্মুক্ত। আমরা মনে করি প্রার্থনার পদ্ধতিগুলি আলাদা হতে পারে। তবে আপনি যদি বিশুদ্ধ হৃদয়ে প্রার্থনা করেন তবে উপাস্য দেবতা প্রার্থনা অবশ্যই গ্রহণ করবেন, তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন।

এই অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা, কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ বিজেপি নেতারা শ্রোতা হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকও ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।প্রসঙ্গত, শান্তি কালী মহারাজ ১৯৯৯ সালে উগ্রপন্থী হামলায় নিহত হন। তাঁকে হত্যার পেছনে কারণ ছিল জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে খ্রিস্টান ধর্মের জোরপূর্বক প্রসারের বিরুদ্ধে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।