সূচ ঢুকিয়ে শিশুহত্যায় মা ও তাঁর প্রেমিকের ফাঁসির সাজা রদ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কলকাতা, ২৫ আগস্ট (হি. স.) : তাদের ‘প্রেম’-এর সম্পর্কে ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাটি। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মা এবং তার ‘প্রেমিক’। চার বছর আগের সেই ঘটনায় নিহত শিশুর মা এবং তার ‘প্রেমিক’কে ফাঁসির সাজা দিয়েছিল আদালত। পুরুলিয়ার সূচ-কাণ্ডে নিহত শিশুর মা এবং তার ‘প্রেমিক’ দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের সেই সাজা রদ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

দোষীরা জেলা আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি বিভাসরঞ্জন দের ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল মামলাটি। তাঁরাই দোষী মঙ্গলা গোস্বামী এবং ‘প্রেমিক’ সনাতন গোস্বামী ঠাকুরের ফাঁসির সাজা রদ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেন, দোষীরা জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত জামিনের আবেদন করতে পারবেন না।

নৃশংস ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ১১ জুলাই। পুরুলিয়ার মফসসল থানার নদিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলা গোস্বামীর সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যার শরীরে সূচ ফুটিয়ে দেয় তাঁর প্রেমিক সনাতন ঠাকুর। গুরুতর আহত ওই শিশুকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানো হয়। শিশুটির দেহ থেকে ৭ টি সূচ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। সেই বছর ২১ জুলাই এসএসকেএম হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। সনাতন ও মঙ্গলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ভয়াবহ এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছিল রাজ্য।

তারপর ২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত দু’জনকেই ফাঁসির সাজা দেয় পুরুলিয়ার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক রমেশ কুমার প্রধান। এই বীভৎস ঘটনাটিকে বিরলতম ঘটনা বলে অ্যাখ্যা দেয় আদালত। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। চার বছর ধরে বিচারপর্ব চলার পরে পুরুলিয়ার জেলা দায়রা আদালতের বিচারক দু’জনকে খুন ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়দানের ঠিক আগের মুহূর্তে সরকারি আইনজীবী বিচারকের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারাগুলি খতিয়ে দেখে যেন অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। দুই অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০বি এবং ৩২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। মঙ্গলা নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করলেও শেষরক্ষা হয়নি সেবার। মৃত্যুদণ্ডের আদেশকে রদ করে এদিন যাবজ্জীবন সাজা দিল আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *