কলকাতা, ৯ আগস্ট (হি. স.) : খোলাবাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যেখানে মোটা স্বর্ণ ধানের সরকারি নির্ধারিত দাম ১৯৬০ টাকা কুইন্টাল, সেখানে খোলাবাজারে এর দাম এখন কুইন্টাল প্রতি প্রায় ২১০০ টাকা। স্বর্ণ ধান থেকে উৎপাদিত চাল রাইস মিলেই মোটামুটি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরু চালের দামও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
মূলত খরিফ মরশুমে স্বর্ণ ধান চাষ করা হয়। গত মরশুমে উৎপাদিত চালের বেশিরভাগটাই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এ বছর চাহিদার তুলনায় স্বর্ণ ধানের জোগান কম হওয়ার কারণে এর দাম বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু গত বছর এই সময়ে চালের দাম এতটা বাড়েনি। খোলাবাজারে চালের দাম এখন সরকারি উদ্যোগে কেনা দামের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর জেরে সরকারি উদ্যোগে চাল কেনার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে গিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের কথায়, এইভাবে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়া তাঁরা আগে কখনও দেখেননি।তাঁদের বক্তব্য কালোবাজারি ও মজুতদারদের জন্যই এইসব হচ্ছে। অপরদিকে, রাইসমিলের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ধানের আমদানি কম। উৎপাদনও কম হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বর্ষাতে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ধান রোপন করা যায়নি। কৃষকদের আশঙ্কাই ছিল যে এর জেরে খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। তাই বেশিরভাগ কৃষকই বাড়িতে ধান মজুত করেছেন।
সূত্রের খবর, কিছু ব্যবসায়ী ধান মজুত করায় রাইস মিলেও ধানের আমদানি কম হচ্ছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু মজুতদার ধানের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বেশি দামি রাইস মিলকে ধান কিনতে হচ্ছে প্রোডাকশনের জন্য। ফলে ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দামও সাধারণভাবেই বেশি হচ্ছে। তবে সরকারের দাবি, ইতিমধ্যেই যে পরিমাণ চাল কেনা হয়েছে তা রেশন, মিড ডে মিল প্রকল্প ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চালের চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট।
ব্যবসায়ীদের অনুমান, এই মরশুমে কম বৃষ্টির জেরে আমন ধানের ফলন বেশ কিছুটা মার খেতে পারে, এই আশঙ্কায় স্বর্ণ ধানের দাম দাম বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ। এ ছাড়াও, এ বছর বিদেশে প্রচুর পরিমাণে চাল রফতানি করা হয়েছে। রাজ্য সরকার রেশনের বাড়তি চাহিদা মেটাতে খোলাবাজার থেকেও টেন্ডার ডেকে চাল কিনেছে। সব মিলিয়েই এবার চালের চাহিদা বেড়েছে।