আগরতলা, ২৬ জুলাই৷৷ মঙ্গলবার ২৬ জুলাই সারা দেশের সাথে রাজ্যেও যথাযোগ্য মর্যাদায় কারগিল বিজয় দিবস পালন করা হয়৷ এ উপলক্ষে সূর্যমনিনগর বিধানসভা এলাকার বাইপাস রবীন্দ্র সংঘের সামনে থেকে যুব মোর্চার উদ্যোগে প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হয়৷ আজ রাজ্যে ও ২৩তম কারগিল বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে৷ বিজেপি যুব মোর্চার উদ্যোগে রাজ্যের সবকটি বিধানসভা এলাকায় কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়৷
এ উপলক্ষে সূর্যমনিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ডুকলি বাইপাস রবীন্দ্র সংঘের সামনে থেকে এক প্রভাত ফেরির আয়োজন করা হয়৷ প্রভাত ফেরিটি ইচাবাজার গিয়ে শেষ হয়৷ প্রভাত ফেরীতে যুব মোর্চার সভাপতি ভুলন সাহা, মন্ডল সভাপতি মান্তু দেবনাথ, ব্লক চেয়ারম্যান অজয় কুমার দাস সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন৷ সেদিন রাজ্যের সর্বত্রই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লাব সহ অন্যান্য সমাজসেবী সংগঠনের তরফ থেকেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়৷ ২৬ জুলাই, আসমুদ্র হিমাচলের প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছে গর্বের দিন৷ কারণ, এই দিনটা যে কার্গিল বিজয় দিবস৷ এই বছর যার ২৩ বছর পূর্তি৷ গর্বের পাশাপাশি মনটা দুঃখেও ভরে ওঠে ভারতবাসীর৷ কারণ, কার্গিলের যুদ্ধে ভারতের ৫২৭ জন বীর জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন৷
১৯৭১-এর যুদ্ধের পর সেই অর্থে অস্ত্র হামলা করেনি ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই৷ পরের দু-দশক দু দেশের সম্পর্কটা সীমান্তে চাপানউতোরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল৷ পাকিস্তানি সেনা খাপছাড়াভাবে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করতে চেয়েছে প্রায়শই৷ জবাবি হামলা করেছে ভারতও৷ ইঁটের জবাবে পাটকেল দিতে দ্বিধা করেনি ভারতীয় সেনারা৷ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে৷ যদিও ভারত কোনও কিছুতেই ঝামেলায় জড়াতে চায়নি পাকিস্তানের সঙ্গে৷ বরং, কার্গিল নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা বজায় রেখেছিল ভারত৷ ১৯৯৮-৯৯ শীতের মরশুমে খানিকটা অধৈর্য হয়ে পড়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী৷ কারণ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছিল ভারত৷ তাই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের কাছে পেরে উঠছিল না পাকিস্তান৷ আবার যখন তাদের সেনাবাহিনী সীমান্তে সংঘর্ষও করেছে, সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত জবাব পাচ্ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে৷
তাই বোধহয়, দু-দিক থেকেই পেরে না ওঠায় খানিকটা বেপরোয়া হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী৷ ১৯৯৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সশস্ত্র সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে ঢুকে পড়তে থাকে ভারতীয় সীমান্তের কাশ্মীরের কার্গিল জেলায়৷ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নাম দেওয়া হয়েছিল ’’অপারেশন বদ্রি’’৷ সীমান্তে ভারতীয় অতন্দ্র প্রহরীদের চোখ এড়িয়ে যায়নি কোনও কিছুই৷ শুরু হয় দু পক্ষের সংঘর্ষ৷ পাকিস্তান যে বেশ পরিকল্পনা করে হামলা চালাচ্ছে, তা বুঝে যায় ভারতও৷ তাই প্রায় ২ লক্ষ সেনা কার্গিল সীমান্তে হাজির করে ভারতীয় সেনাবাহিনী৷ ভারতের পক্ষ থেকে এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয় ’’অপারেশন বিজয়’’৷ শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ৷ দু পক্ষেরই জওয়ানরা প্রাণ হারাতে থাকে৷ তবে, কিছুতেই পিছু হঠতে চাইছিল না পাক সেনারা৷ ভারতই বা শান্ত হয়ে বসে থাকে কীভাবে৷ তাই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলতে থাকে প্রায় দু মাসেরও বেশি সময় ধরে৷
অবশেষে আসে ২৬ জুলাই ১৯৯৯৷ ওই দিন পাকিস্তানি সেনাদের পিছু হঠতে বাধ্য করে ভারতীয় সেনারা৷ কার্গিলের ওই যুদ্ধে জয় হয় ভারতের৷ তাই ২৬ জুলাইকেই কার্গিল বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়৷ পরের বছর থেকে কার্গিলে এবং রাজধানী নয়াদিল্লিতে ২৬ জুলাই বিশেষ অনুষ্ঠান করে পালন করা হয় কার্গিল বিজয় দিবস৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক বছর ২৬ জুলাই ইন্ডিয়া গেটের সামনে অমর জওয়ান জ্যোতিতে কার্গিল যুদ্ধের নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন৷ পিছিয়ে থাকে না গোটা দেশও৷ ভারতবর্ষের প্রতিটা কোণে ২৬ জুলাই গর্বের সঙ্গে পালন করা হয়৷

