বন্যা-বিধ্বস্ত বরাক উপত্যকার জন্য ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দাবি কংগ্রেসের

করিমগঞ্জ (অসম), ৯ জুলাই (হি.স.) : সাম্প্রতিক বন্যায় অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত বরাক উপত্যকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করার দাবি তুলেছে কংগ্রেস। এই দাবির পাশাপাশি সর্বহারা বানভাসি মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের নেতৃত্বে জেলা কংগ্রেস শনিবার দু-ঘন্টার ধরনা কর্মসূচি পালন করেছে।

সরকারি সহায়তা প্রদানে কোনও ধরনের স্বজন-পোষণ নীতি ও রাজনীতি করা হলে কংগ্রেস দল ছেড়ে কথা বলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিধায়ক কমলাক্ষ। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত অস্থায়ী ধরনা শেডে নিজের বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন তিনি। বলেন, বরাক সহ সমগ্র রাজ্যের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় সর্বস্ব হারানো জনগণের সহায়তায় মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে কোটি কোটি টাকা জমা হচ্ছে। অথচ এই টাকা বন্যাক্রান্ত অসহায় মানুষের কোনও কাজে লাগছে না। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করতেই সরকার পক্ষ বেশি সক্রিয়স এই অভিযোগও করেছেন বিধায়ক।

তাঁর অভিয়োগ, বরাক উপত্যকা সহ রাজ্যের বানভাসি সর্বহারাদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে না। ত্রাণ সামগ্রীর তালিকায় চাল, ডাল, তেল, লবণ, শিশুদের জন্য দুধ সহ সাতটি আইটেম ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চাল, ডাল ও লবণ বরাদ্দের তুলনায় কম পরিমাণে বানভাসিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অন্যান্য সামগ্রী কার পকেটস্থ হয়েছে? মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান কমলাক্ষ।

বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তিন-তিনবার শিলচরের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে এসেছেন। কিন্তু শিলচরের বানভাসি সর্বহারাদের জন্য কী নিয়ে এসেছেন তিনি? উত্তর-কাছার পার্বত্য জেলার জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। বরাক উপত্যকার প্রলয়ঙ্করী বন্যায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার কোটির অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সরেজমিনে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেও বিশেষ কোনও আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেননি। এতে বরাকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতার মনোভাবটা ফুটে উঠেছে বলেও কটাক্ষ করেন বিধায়ক কমলাক্ষ।

ধরনা কর্মসূচিতে জেলা কংগ্রেস সভাপতি রজত চক্রবর্তী বলেন, বরাকবাসী এবারের সর্বনাশা বন্যায় নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। সর্বহারা বন্যাক্রান্তদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সাহায্য এবং ত্রাণ সামগ্রী বণ্টনে যদি কোনও দুর্নীতি ও স্বজন-পোষণ নীতির তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তা-হলে কংগ্রেস সমগ্র বরাক উপত্যকায় গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবে। আর এই আন্দোলনের প্রভাব যে কতটুকু সুদূরপ্রসারী হবে তা মুখ্যমন্ত্রী ও সরকার কল্পনাও করতে পারবে না বলে, হুঙ্কার দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতিও। এদিনের ধরনা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এপিসিসির অন্যতম উপ-সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, জেলা মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সংঘমিত্রা দাস, খসরুল হক, শুভজিৎ চক্রবর্তী, ইশহাক আহমদ, ময়না মিয়াঁ, বজলুল হক সহ জেলা কংগ্রেসের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কর্মকর্তাগণ।