আগরতলা, ৮ জুলাই (হি. স.) : শিক্ষার সাথে রোজগার। বিদ্যালয় ছুট ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অভিনব যোজনার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ত্রিপুরা সরকার। করোনার প্রকোপে ৮৮৫০ জন ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁদের ফিরিয়ে আনার জন্য ওই যোজনার বিষয়ে ভেবেছে শিক্ষা দফতর। শুধু তাই নয়, আরও কতজন এমন বিদ্যালয় ছুট রয়েছেন, তাদের খুঁজে বের করতে সমীক্ষা চালাবে শিক্ষা দফতর।
আজ সন্ধ্যায় সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবিষয়ে বলেন, ত্রিপুরায় বিদ্যালয় চলো অভিযান আগেও ছিল। করোনার প্রকোপে তা বন্ধ করতে হয়েছিল। এখন পুণরায় চালু করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, করোনার প্রভাব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভয়াবহভাবে পরেছে। তাতে, বিদ্যালয় চলো অভিযানে ব্যাঘাত ঘটেছে। শুধু তাই নয়, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আনার নতুন চিন্তাভাবনা চলছে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী ৮৮৫০ জন ছাত্রছাত্রী করোনার জেরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের পুণরায় বিদ্যালয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ওই ছাত্রছাত্রী ছাড়াও এমন আরও কতজন বিদ্যালয় ছুট রয়েছে তাদের খোঁজে বের করার জন্য সমীক্ষা চালানো হবে। তাঁর বক্তব্য, ওই ছাত্রছাত্রীদের খুঁজে বের করার জন্য নতুন যোজনা আনা হবে। শিক্ষার সাথে রোজগার এই যোজনার সহায়তায় বিদ্যালয় ছুটদের পুণরায় শিক্ষার আঙ্গিনায় আনা হবে।
তাঁর দাবি, কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের ওই যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদ্যালয় ছুট ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলে প্রতি ছাত্র পিছু ৫০০ টাকা দেওয়া হবে।এভাবে কলেজে অধ্যায়নের সাথে রোজগারও সম্ভব হবে।
তিনি জানান, খুব শীঘ্রই ওই যোজনা চালু করা হবে। আগস্টের মধ্যেই সমীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অবশ্য, সমীক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের আহবান জানানো হবে। সে মোতাবেক প্রত্যেক কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের তালিকা পাওয়ার পর সমীক্ষা শুরু হবে।তিনি বলেন, বিদ্যালয় ছুটদের খুঁজে বের করতে অঙ্গনওয়ারি কর্মীদেরও সহায়তা নেওয়া হবে। কলেজ পড়ুয়াদের পক্ষে সম্ভব বিদ্যালয় ছুটদের ফিরিয়ে আনতে সম্ভব না হলে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর জন্য ২০০ টাকা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, নতুন শিক্ষা আইন মোতাবেক একজন ছেলে কিংবা মেয়ে বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।