পাথারকান্দি (অসম), ৪ জুলাই (হি.স.) : করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাথারকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী স্থানীয় কপিতয় দুষ্কৃতী। এই অভিযোগ তুলে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলাশাসককে স্মারকপত্র প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাথারকান্দির সার্কল অফিসার অর্পিতা দত্তমজুমদারের মারফত জেলাশাসকের উদ্দেশ্যে প্রেরিত টিলাবাড়ি, বারুয়াইল, চেংজুর এবং কাবাড়িবন্দ গ্রামের ২৩০ জন স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত স্মারকপত্রে ভুক্তভোগীরা ডেফলছড়াকে মুক্ত করে অবিলম্বে ভাঙা বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ডেফলছড়ার কারণে প্রায় প্রতিবছর পশ্চিম পাথারকান্দির বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে নাগরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে আসছে। এবারও অতিবৃষ্টির দরুন ডেফলছড়ার বাঁধ ভেঙে পশ্চিম পাথারকান্দির বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়।
স্মারকপত্রে লেখা হয়েছে, এই ছড়াটি পাথারকান্দির বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নেমে এসেছে। উজান এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ফিশারি। প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে ডেফলছড়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জল নিজস্ব গতিতে নেমে আসতে না পারায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ১৮ জুন বাড়ুয়াইল গ্রামের পশ্চিমাংশ এবং উজান ডেফলালার সংযোগস্থলে ডেফলছড়ার সংকোচনের ফলে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে জল প্রবেশ করে। অভিযোগ, ডেফলছড়ার পাশে এক বৃহৎ এলাকা অবৈধ দখল নিয়ে লোকজন বসবাস করার ফলে ছড়াটির মূল পরিসর সংকুচিত হয়ে অতি সংকীর্ণ জলপথে পরিণত হওয়ার ফলে প্রতিবছর বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করে দিতে জেলাশাসকের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা। স্মারকপত্রের প্রতিলিপি পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল, পূর্ত বিভাগের করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির এসই এবং পাথারকান্দি ও রামকৃষ্ণনগরের সহকারী নির্বাহী বাস্তুকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকপত্রে অন্যান্যরদের মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ওয়াহিদ জামান, মঞ্জুর আহমেদ, জয়নুল হক, রুহুল আমিন, মনরুল ইসলাম, হাসিব উদ্দিন প্রমুখ ২৩০ জন।

