আগরতলা, ২৮ জুন : ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নদের আন্দোলন প্রত্যাহার না হলে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে কর্মরত ইন্টার্ন ডাক্তারদের গণ অবস্থান আন্দোলন আজ ১৭ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার করে ইন্টার্ন ডাক্তারদের অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ইন্টার্নশিপ স্টাইপেন্ড বাড়ানোর দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে কলেজ ভবনে আন্দোলন করছেন ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্নরা। চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গৃহীত ব্যবস্থা এবং বিষয়টি সম্পর্কে টিএমসি হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্টের অফিস চেম্বারে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ইন্টার্ন ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষের তরফে সাংবাদিকদের অবহিত করে জানানো হয় ইন্টারদের প্রধান দুটি দাবির মধ্যে একটি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ডাক্তাররা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে হোস্টেল চার্জ দিতেন। এই হোস্টেল চার্জ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাদের অপর মূল দাবি হলো তাদের মাসিক স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি করে কুড়ি হাজার টাকা করা। বর্তমানে তারা প্রতি মাসে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা স্টাইপেন্ড পাচ্ছে।
স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবিতে তারা গত ১৭ দিন ধরে গণঅবস্থান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান ইন্টার্ন ডাক্তারদের ইন্টার্ণশিপ বাধ্যতামূলক। ইন্টার্নশিপ পূরণ করা না হলে তারা চূড়ান্ত সার্টিফিকেট পাবে না। এসব বিষয়ে তাদেরকে বারবার বুঝানো হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন আগরতলা মেডিকেল কলেজে মাসে কুড়ি হাজার টাকা করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে।
ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যারা ইন্টার্ন করছেন তাদেরকেও প্রতি মাসে সরকারি মেডিকেল কলেজের হারে কুড়ি হাজার টাকা করে স্টাইপেন্ড দিতে হবে। আন্দোলনরত ইন্টার্ন ডাক্তারদের মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে একাধিকবার ডেকে এনে এসব বিষয়ে বুঝানো হয়েছে এবং পরবর্তী পরিচালন কমিটির বৈঠকে বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী এ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদেরকে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছে না। তাতে ইন্টারনেটের ক্ষতি হচ্ছে বলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছেন।
অবিলম্বে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে না নিলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।