খোয়াই, ১৪ জুন : রাজ্যের সাধারণ জনগণ বহু আসা এবং প্রত্যাশা নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। নতুন আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল কিন্তু চার বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সাধারণ সমস্যাগুলি বহুলাংশে সমাধান করতে পারেনি। ভিশন ডকুমেন্ট গাদাগাদা প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রতিশ্রুতি বিন্দুমাত্র পালন করা হয়নি। যে জায়গায় মন্ত্রীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে বলছে ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। কিন্তু গ্রাম পাহাড়ের গেলে দেখা যায় এর অন্যরূপ চিত্র। গত চার বছর ধরে খোয়াই ব্লক এলাকার গ্রামীণ সড়ক গুলো সংস্কার হয়নি। যার ফলে অনেক এলাকার রাস্তা এখন বিপদ জনক অবস্থায় আছে। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এলাকার নাগরিক দের প্রচন্ড দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। একাধিক রাস্তায় যান চলাচল খুবই ঝুকিপূর্ন।
খোয়াই আর. ডি ব্লকের অন্তর্গত দক্ষিণ সিঙ্গি ছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে এক নম্বর ওয়ার্ডটি নানান সমস্যায় জর্জরিত। এলাকাটির বেশিরভাগ অংশ টিলাভূমি হওয়ার কারণে সেখানে পানীয় জলের নিত্যদিনের সমস্যা দীর্ঘ প্রায় কয়েক যুগ ধরে। এলাকাটিতে প্রায় দুই শতাধিক লোকের বাস এখানে জলের কল বসানো হলেও উঁচু টিলার জন্য জলের লেয়ার ক’দিন বাদেই চলে যায় ফলে পানীয় জল পৌঁছে দেবার একমাত্র মাধ্যম হল পাইপলাইন। তৎকালীন বাম সরকারের আমলে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য ও বৈজ্ঞানিক ভাবে পাইপলাইন বসিয়েছিল তার ফলে উঁচু অংশগুলোতে জল গিয়ে পৌঁছায় না। পাইপ লাইনের মাধ্যমে শিঙিছড়া বেলতলী থেকে ওই অংশের জলের সংযোগ দেওয়া হয় প্রতি বাড়ি বাড়ি ফলে কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর আবারো অবৈজ্ঞানিক ভাবে বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়ায় পুরনো যেসব বাড়ি গুলিতে জল যেত সেই বাড়িগুলোতে আর জল গিয়ে পৌছায়না অত্যাধিক বেশি সংযোগ দেওয়ার ফলে। যদিও ওই এলাকায় একটি জলের জন্য ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে কিন্তু এটির সংযোগ কবে নাগাদ দেয়া হবে তার কোন হদিস মিলছে না। ওই এলাকার দীর্ঘদিন ধরে জলের সমস্যা সাধারণ জনগণের।
পাশাপাশি দক্ষিণ সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নাম্বার ওয়ার্ডের দুটি রাস্তা প্রধান সড়কের সাথে যুক্ত করেছে। রাস্তাটির বেহাল অবস্থা একটি রাস্তা মূলত সিঙ্গিছড়া প্যাক্স বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে আচার্জী পাড়া পর্যন্ত অপর রাস্তাটি দক্ষিণ সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভৈরব বটগাছ থলি পর্যন্ত। এই রাস্তাটি দক্ষিণ সিঙ্গিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ১০ থেকে ১৫ হাত দূর পর্যন্ত হবে কিন্তু সবকিছু দেখেও নিশ্চুপ । জনগণ এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘোড়া নিয়ে চলা তো দূরের কথা হেঁটে পেরোনো দুষ্কর। এই ইট সলিং সড়কটি এখন বেহাল দশায় ধুঁকছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির জীর্ণ আর ভগ্নদশার কারণে মানুষের ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শেষ নেই। পুরো রাস্তাটি যন্ত্রনা দিয়ে মারছে সাধারণ মানুষজনকে।সেই যে কবে সংস্কার হয়েছিল সড়কটির, তা মনে করতে পারছেন না ভুক্তভোগী মানুষেরা।গত চার বছরেরও বেশী সময় ধরে সড়কটির কোন সংস্কার নেই। সড়কের অনেক জায়গায় ইট উঠে গেছে।রাস্তার মাঝে মাঝেই বিরাট বিরাট গর্ত।বর্ষার বৃষ্টিতে জলকাদায় একাকার। ভেঙে যাচ্ছে অনেক স্থানে।কিন্ত সামান্যতম কোন মেরামতি বা সাড়াইয়ের উদ্যোগ নেই। অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র সেজে বসে আছে পন্চায়েত সহ পঞ্চায়েত সমিতি আর জেলা পরিষদের। কারোরই কোন বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। খোয়াই ব্লকও নীরব দর্শক।কবে জানি ঘুচবে সড়কের জীর্ণদশা! তা জানে না কেউ। সেটাই জিজ্ঞাসা সবার।মানুষ ভুগে মরছে, জীবন যন্ত্রনার শিকার হচ্ছে, জীর্ণদশার রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করাই ঝুঁকিপূর্ণ, যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম, এরপরেও কেন ভগ্নদশার সড়কটির কোন মেরামতি নেই? সেটাই এখন প্রশ্ন।মডেল রাজ্যের হীরার শাসনে একটি সড়ক বেহাল দশায় মানুষের দুর্দশা বাড়ালেও সরকারের সম্বিত ফেরেনা।এটাই যেন এখন দস্তুর।