আগরতলা, ৯ জুন (হি. স.) : জনজাতিদের উপর অন্যায়ভাবে লাঠিপেটার অভিযোগ এনে কেঁদে ভাসালেন এমডিসি তথা তিপরা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। তাঁর বক্তব্য, জনজাতি ও বাঙালির মধ্যে বিভেদ নেই। জনজাতিরাই কিছু অর্থের লোভে জনজাতিদের উপর অত্যাচার করছেন। পুলিশ লেলিয়ে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে জনজাতিদের মহিলাদের আক্রান্ত করা হয়েছে। সাংসদ রেবতী ত্রিপুরাকে নিশানা করে প্রদ্যোতের হুশিয়ারি, জবাব দেওয়া হবে।
আজ তৈদুতে প্রদ্যোত কিশোর গত ৭ জুন পুলিশের লাঠিপেটায় আহতদের খোঁজ নিতে গেছেন। সেখানে গিয়ে সভায় শাসক দল বিজেপি এবং ত্রিপুরা প্রশাসনকে এক হাত নিয়েছেন। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেছেন। তাঁকে কাঁদতে দেখে উপস্থিত মহিলাদের অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পরেন এবং তাঁরাও কেঁদে ফেলেন।
প্রদ্যোত বলেন, জনজাতিদের মারধরের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। তার জবাব দেওয়া হবে। এই অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্যই তিপরাল্যান্ডের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, দাবি করেন তিনি। তাঁর ঘোষণা, সেদিনের ঘটনায় আহতদের চিকিত্সার জন্য সহায়তা বাবদ ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। তিনি জোর গলায় বলেন, থেমে যাওয়ার লোক নই আমি। যেখানে মারবে সেখানে যাব। যতদিন জীবিত আছি জনজাতিদের জন্য লড়ব। চুপ করে বসে থাকব না, হুশিয়ারি দিয়ে বলেন তিনি।
শাসক দল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে প্রদ্যোতের দাবি, তাঁদের কাছে পুলিশ, প্রশাসন সবই রয়েছে। কিন্ত জনজাতিরা তাঁদের সাথে নেই। সাথে তাঁর আক্ষেপ, জনজাতিরাই এখন জাতিজাতিদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। অর্থের লোভে তাঁরা একতা ভাঙছেন। জনজাতি ও বাঙালির মধ্যে বিভেদ নেই। জনজাতিই নিজেদের ক্ষতি করছেন।
প্রসঙ্গত, জনজাতি ইস্যুতে কেঁদে ফেলা প্রদ্যোতের রাজনৈতিক কৌশল হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে খুমুলুং-এ জনজাতিদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে তিনি কেঁদে ভাসিয়েছেন। তাতে, এডিসি নির্বাচনে দারুণভাবে উপকৃত হয়েছেন। প্রদ্যোতের ওই কৌশল জনজাতিদের আবেগপ্রবণ করে ফেলে। তাতে, জনজাতি ভাবাবেগে আঘাত করে রাজনৈতিক ফায়দা ঘরে তুলে নিতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।