ঢাকা, ৫ জুন(হি.স) : শনিবার রাতের বিএম কন্টেইনার ডিপোয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল বাংলাদেশের সীতাকুণ্ডে। রাতভর আগুন আর পরপর বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু ৩২ জনের। এদের মধ্যে রয়েছেন ৩ দমকল কর্মীও। আহত দেড়শোরও বেশি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে আহতদের।
রবিবার সকালেও কন্টেনারের ডিপোয় আগুন জ্বলছে, ভিতর থেকে ভেসে আসছে বিস্ফোরণের শব্দ। হিমশিম খাচ্ছে দমকল কর্মীরা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাতভর কাজ করে চলেছেন তাঁরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঢাকা -চট্টগ্রাম হাইওয়ে সংলগ্ন সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় একটি বড়সড় কন্টেনার ডিপো অবস্থিত। আমদানি-রপ্তানি করা বিভিন্ন পণ্য এই ডিপোতে রাখা হয়। শনিবার রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ এই ডিপোয় আচমকাই আগুন লেগে যায়। সেসময় কাজ করছিলেন অনেকেই। ডিপোর ভিতরে মজুত থাকা দাহ্য পদার্থের জন্য দ্রুত আগুনের লেলিহান শিখা চড়িয়ে পড়তে থাকে। ঘটতে থাকে বিস্ফোরণ। চারপাশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দমকল কর্মীরা ছুটে এসে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। একে একে ৩২ জনের ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয় ডিপোর ভিতর থেকে। কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিন দমকল কর্মীও।
এমন ভয়াবহ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন পুলিশ ও দমকল বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কারখানায় ৫০০ মিটারের মধ্যে একটি টিনের শেড রয়েছে। সেখানে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন পারক্সাইড মজুত ছিল বলে জানা যাচ্ছে, যা অতি দাহ্য পদার্থ। সেখানেই প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে শেডটি। তবে এখানেই আগুনের উৎস কি না, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। এমনই জানাচ্ছেন চট্টগ্রামের দমকল বিভাগের ডিজি।

