বিদ্যুৎ নিগম কেন্দ্রের নির্দেশিকা মানছে না, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ তছরুপের অভিযোগ

আগরতলা, ১২ মে(হি. স.) : বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রকল্প রূপায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন মানছে না বিদ্যুৎ নিগম। ফলে, সৌভাগ্য যোজনা সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত সাধারণ নাগরিক। বিদ্যুৎ নিগমের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ এনেছেন উদয়পুর নিবাসী ইঞ্জিনিয়ার অনুপ ভৌমিক। তিনি নিগমের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপেরও অভিযোগ করেছেন।

তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার সঠিক সময়ে নিগমকে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিসর বৃদ্ধির জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও আশানুরূপ কাজ করেনি টিএসইসিএল। তাতে, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারন মানুষ। 

এদিন তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুত পরিষেবার সম্প্রসারণ হয়নি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, ভোক্তাদের মিটার প্রদান সহ বিভিন্ন কাজের জন্য ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ, ১১০০টি ট্রান্সফরমার বন্টন, ২১০০ কিমি ১১কেভি এবং ৬০০ কিমি এলটি লাইন বসানো ও ৪টি সাব স্টেশন নির্মাণ এখনো অধরা রয়েছে। শুধু তাই নয়, অসমাপ্ত রেখেই ওই প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ নিগম।

তিনি বলেন, সৌভাগ্য যোজনায় ১৩৯০৯০টি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ, শুধু মাত্র ৫১২১৬টি বাড়ি থেকে বিদ্যুতের বিল আদায় করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নিগমের তথ্য অনুসারে ১৬১৭২৮টি বিদ্যুতের মিটার ভোক্তাদের বন্টন করা হয়েছে। কিন্ত, প্রচুর বাড়িতে বিল পাঠানো হচ্ছে যাঁদের এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়াই হয়নি।

তাঁর দাবি, টিএসইসিএল ত্রিপুরাতে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে ঘোষণা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে প্রত্যেক বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছে। কিন্ত, অনেক বাড়িঘর বিদ্যুৎ পরিষেবার সংস্পর্শে এখনো পৌছাতে পারেনি। সেই কাজ এখনও অধরাই রয়ে গেছে। এ-বিষয়ে বারবার বিদ্যুৎ নিগমের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা এই  সম্পর্কে কিছু বলতে চাইছে না।ইঞ্জিনিয়ার অনুপ ভৌমিকের বক্তব্য, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ করলেও সেই কাজগুলি সম্পন্ন হচ্ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ১০ কিমি রাস্তার কাজ করার জন্য  টাকা বরাদ্দ হলেও আদতে কাজ হচ্ছে ২ কিমির। অবিলম্বে বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা নিগমের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।