অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেসের সদ্য-প্রাক্তন তিন নেতার

গুয়াহাটি, ১১ মে (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলার সদ্য কংগ্রেস-ত্যাগী তিন নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। তাঁরা সদ্য-প্রাক্তন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মাংগলিন হাওলাই, সম্পাদক আচিং জেমি এবং সামজিক মাধ্যমের স্বমন্বয়ক সেতমিনথাং খংসাই। আজ বুধবার তাঁরা গুয়াহাটির মাছখোয়ায় প্রাগজ্যোতি আইটিএ কালচারাল কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের অসম প্রদেশ সভাপতি রিপুন বরা এবং সাংসদ সুস্মিতা দেবের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়াফুলের দলে যোগদান করেছেন।

গত সোমবার ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মাংগলিন হাওলাই, সম্পাদক আচিং জেমি, জেলা কংগ্রেসের আইনি কোষের চেয়ারম্যান জুয়েল সেংইয়ং এবং সামজিক মাধ্যমের সমন্বয়ক সেতমিনথাং খংসাই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগকারী চার কংগ্রেস নেতার মধ্যে জুয়েল সেংইয়ুং তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেননি। তিনি কোন দলে যোগ দিচ্ছেন তা এখনও পরিষ্কার নয়।

এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বের ওপর ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার দরুন অনেক কংগ্রেস নেতা-কর্মী দল ছাড়ার চিন্তাচর্চা করছেন। এই সকল কংগ্রেস নেতা-কর্মী দলের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। তা যদি হয়, তা-হলে ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেস নেতা-মুক্ত হতে চলছে তা বলা-ই বাহুল্য।

ডিমা হাসাও জেলা কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের দাবি, প্রয়াত গোবিন্দচন্দ্র লাংথাসার পর আর দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনও নেতা এখন আর নেই। শতাব্দি-প্রাচীন একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। কিন্তু আজ এই দলের অবস্থা সমগ্র দেশে শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অসমের প্রায় প্রতিটি জেলায়ই এখন কংগ্রেসের অবস্থা লেজেগোবরে, মন্তব্য বহু কংগ্রেস নেতার।

এদিকে উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদের একমাত্র তথা বিরোধী কংগ্রেস সদস্য ড্যানিয়েল লাংথাসাও একপ্রকার কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপি দলে যোগদানের জন্য চেষ্টা করছেন বলে খবর প্রকাশ। তবে জেলা বিজেপির একাংশ নেতা-কর্মীর মধ্যে কিছু মতবিরোধ থাকায় ড্যানিয়েলের এখনও বিজেপিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তিনি অবশ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে দলের প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।