কলম্বো, ৯ মে (হি.স.): আর্থিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটে রীতিমতো জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের জনগণ। কলম্বোতে জারি হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ। এমতাবস্থায় ইস্তফা দিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারি সমর্থকদের সংঘর্ষের পর সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। কলম্বোর গাল্লে ফেস এলাকায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে পুলিশ।
সরকারি সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধে গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। রক্তাক্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী। শ্রীলঙ্কায় অস্থির পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন সেখানকার নাগরিকরা। সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন সাধারণ নাগরিকরা। তখনই পুলিশ ও সরকারি সমর্থকদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে তাঁদের। এই দ্বীপরাষ্ট্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। এরপর সোমবারই ইস্তফা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। এপ্রিল থেকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা নিজেকে ‘অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া’ ঘোষণা করে। তারপর থেকেই প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষের ইস্তফার দাবি জোরদার হয়েছিল ভারতের দক্ষিণের এই দ্বীপ রাষ্ট্রে। দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি কখনও এমন চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েনি।

