আগরতলা স্টেশনে রেলের পার্সেল কামরায় তল্লাসি চালিয়ে প্রচুর নেশা সামগ্রী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ এপ্রিল৷৷ শিলচর থেকে আগরতলাগামী ট্রেনে পার্সেল কামড়ায় করে অভিনব কায়দায় নেশাজাতীয় সামগ্রী নিয়ে আসা হচ্ছে রাজ্যে৷ এধরনের চাঞ্চল্যকর সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন এন্টি নারগটিক বিভাগের কর্মকর্তারা৷ অভিযান চালিয়ে ৫৪ টি কার্টনে প্রচুর পরিমাণ কফ সিরাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ প্রতিটি কাটনে তিনশো কুড়ি বোতল করে এসকপ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যান্টি নারকটিক বিভাগের কর্মকর্তারা৷ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয় শিলচর থেকে আগরতলাগামী ট্রেনে করে পার্সেল কামড়ায় নেশাজাতীয় কফ সিরাপ নিয়ে আসা হচ্ছে বলে অ্যান্টি বিভাগের সুপার শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী এবং ডিএসপি প্রদীপ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর ছিল৷ সেই খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা রাত থেকেই অ্যান্টি নারকটিক বিভাগের কর্মকর্তারা আগরতলা রেল স্টেশন৷ পার্সেল কামরা থেকে মাল নামানোর পর সেগুলি খতিয়ে দেখেন তারা৷ শনিবার সকাল পর্যন্ত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকে৷ তৎপরতা চালিয়ে ৫৪টি কাটন থেকে প্রচুর পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ নেশাজাতীয় সামগ্রী গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ এসব সামগ্রী এর মালিক কে বা কারা সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে৷ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে৷ উল্লেখ্য রাজ্য সরকার রাজ্যকে নেশা মুক্ত রাজ্য হিসেবে গঠন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছে৷ পুলিশ প্রশাসন ও এবপারে তৎপর রয়েছে৷ কিন্তু রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে নেশা কারবারিরা নেশা সামগ্রী রাজ্যে নিয়ে আসছে৷ এসব নেশা সেবন করে রাজ্যের যুবসমাজ ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে৷ শুধু তাই নয় ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্তকে পুঁজি করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও এসব নেশাজাতীয় সামগ্রী প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে৷ কোনভাবেই নেশা জাতীয় সামগ্রির বাড়বাড়ন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না৷ শুক্রবার সন্ধ্যা রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত শিলচর থেকে আগরতলা গামী ট্রেনে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷ রেলপথে বিশেষ করে পার্সেল কামড়ায় কিভাবে ধরনের নেশাজাতীয় সামগ্রী রাজ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ণ উঠেছে৷ এর পেছনে রাঘব-বোয়ালরাও জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ৷ এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সরকার ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানা যায়৷ এদিকে নারকটিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এ ব্যাপারে তারা কঠোর মনোভাব গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন৷ অপরাধীদের কোনভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না বলেও তাঁরা জানিয়েছেন৷