আগরতলা, ২০ এপ্রিল(হি. স.): কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ত্রিপুরা। সারা রাজ্যেই ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোমতী জেলা। ওই জেলায় অনুষ্ঠিত বইমেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর বই নষ্ট হয়েছে। তাছাড়াও, সারা রাজ্যেই কালবৈশাখীর ঝড়ে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগরতলায় গাছ ভেঙ্গে পরে তিনজন আহত হয়েছেন। তাছাড়া, বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্য যুদ্ধকালীন তত্পরতায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছে। বহু এলাকায় এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ সমাপ্ত হয়নি। প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাজধানী আগরতলা শহরের জগন্নাথ বাড়ি রোডে বুধবার সকালে কালবৈশাখীর ঝড়ে একটি বিশাল আকার গাছ ভেঙ্গে পরে তিনজন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি গাড়ি এবং অপর একটি মোটরবাইক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দমকল বাহিনীর কর্মীরা জিবি হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় বুধবার সকাল নাগাদ কালবৈশাখী ঝড় আছড়ে পরে জগন্নাথ বাড়ি রোড এলাকায়। ওই সময়ে কয়েকজন লোক সেখানে একটি অস্থায়ী চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনই কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছটি ভেঙ্গে পড়ে। গাছের চাপা পড়ে তিনজন গুরুতর ভাবে আহত হন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করার জন্য দমকল বাহিনীকে খবর দেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অপরদিকে একটি গাড়ি এবং একটি মোটর বাইক গাছের চাপায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে গাছটির গোড়ার মাটি খসে যাওয়ার ফলেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।
এদিকে বুধবার সকালে উদয়পুরের কে বি আই মাঠে কালবৈশাখীর ঝড়ে বইমেলার ১৮টি স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ লক্ষাধিক টাকা ছাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এদিন সকালে আচমকা কালবৈশাখীর ঝড়ে বইমেলার ১৮টি স্টল ভেঙ্গে পড়েছে। তাতে সমস্ত বই বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। পুস্তক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মেলা পরিচালন কমিটির গাফিলতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এমন পরিণতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্টল সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিলনা। ফলে সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পুস্তক ব্যবসায়ীদের। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ত্রিপুরা রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের জারি করা রিপোর্টে জানা গেছে, গতকাল রাত থেকে বিভিন্ন সময়ে কালবৈশাখীর ঝড়ে সারা রাজ্যে ১১টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ৫৫টি বাড়ি মারাত্মকভাবে এবং ১২৪টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি বাড়ির পরিবারের হাতে ৩০ হাজার টাকা সাময়িক ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়েছে প্রশাসন। ওই রিপোর্ট অনুসারে, ধলাই জেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে গতকাল থেকে ৪৪টি বাড়ি আংশিক এবং ২৪টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোমতী জেলায় ৮টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ১৬টি বাড়ি মারাত্মকভাবে এবং ৩৬টি বাড়ি কালবৈশাখীর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ওই জেলায় ৪টি বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে পড়েছে। একটি স্কুলের ছাত্রাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কালবৈশাখীর ঝড়ের প্রকোপ দক্ষিণ জেলাতেও দেখা গেছে। ওই জেলায় ১ টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে এবং ১টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ২২ টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিপাহিজলা জেলায় ২টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে, ১৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে এবং ২২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এদিন কালবৈশাখীর ঝড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগরতলা আজ দিনভর বিদ্যুতের সমস্যায় ভুগেছে। সারা শহরে বিভিন্ন স্থানে গাছ পরে, ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। তবে, যুদ্ধকালীন তত্পরতায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়েছে।