আগরতলা, ২০ এপ্রিল : বিভিন্ন রেলওয়ে প্রকল্প ও পরিকাঠামোর উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা করতে আজ ত্রিপুরার এসেছেন রেল প্রতিমন্ত্রী রাওসাহেব পার্টিল দানভে। শ্রী দানভে আগরতলা স্টেশনে স্মৃতিস্তম্ভ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর দ্বারা তাঁকে গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়।
শ্রী দানভে ট্র্যাক ও সিগন্যালিং সরঞ্জামের পাশাপাশি নিরাপত্তা সম্পর্কিত যন্ত্রপাতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে আগরতলা-সাব্রুম সেকশন থেকে একটি উইন্ডো ট্রেইলিং ইনস্পেকশন পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি বিখ্যাত ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের উপর ভিত্তি করে নির্মিত উদয়পুর স্টেশন পর্যবেক্ষণ করেন ও স্থাপত্যকলার প্রশংসা করেন। তিনি উদয়পুর ষ্টশনে যাত্রীদের সঙে মত বিনিময় করেন।
তিনি আজ সাব্রুম স্টেশন ইয়ার্ড এবং নির্বিঘ্ন পরিবহণের জন্য সাক্রমে নির্মীয়মাণ কৌশলী প্রকল্প লজিস্টিক পার্ক পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তর পর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অনশুল গুপ্তা ও রেলওয়ের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা। তিনি পণ্য পরিবহণ পরিচালনার জন্য স্টেশন ইয়ার্ডে বিভিন্ন অপারেশনাল দিক ও সাব্রুম ইয়ার্ডে প্রদত্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক বৈশিষ্ট্যের পর্যালোচনা করেন তিনি। এছাড়াও তিনি লোডিং/আনলোডিং কাজের মসৃণ পরিচালনার জন্য উপলব্ধ বিভিন্ন সুযোগ ও সুবিধা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি সাব্রুম স্টেশনে সাংবাদিকের সাথেও মত বিনিময় করেন।
এরপর তিনি সাব্রুমে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিসি) পরিদর্শন করেন। এই আইসিপি-তে স্থলপথ, রেলপথ ও জলপথের পণ্যসম্ভার পরিচালনার জন্য মাল্টি-মোডাল সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আইসিপি-এর ভেতরে পণ্যসামগ্রী লোডিং/আনলোডিং করার জন্য এখানে রেলওয়ে সাইডিং নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর গতি শক্তি টার্মিনাল নীতির অধীনে বিকশিত করা হবে। এই নীতি সময়বদ্ধ পদ্ধতিতে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করবে এবং রেলওয়ের সাথে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপন সক্রিয় করে তুলবে। ত্রিপুরা সরকার অতিরিক্ত অর্থনীতির উৎপন্ন ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যকলাপের প্রচার করতে সাক্রমে লজিস্টিক হাব স্থাপন করবে।
এর আগে ১৯ এপ্রিল রেল প্রতি মন্ত্রী বিভিন্ন নিরাপত্তার দিক খতিয়ে দেখতে এবং নিউ বঙাইগাঁও-আগিয়াঠুরি ডাবল লাইন প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে কামাথা থেকে বরপেটা রোড পর্যন্ত একটি উইন্ডো ট্রেইলিং ইনস্পেকশন পরিচালনা করেন। এই ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে, সেকশনটির লাইন ক্যাপাসিটির বৃদ্ধি হবে, সীমাবদ্ধতা কমবে এবং অধিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী ট্র্যাফিক পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি বরপেটা জেলায় একাধিক সরকারি প্রকল্পেরও পর্যালোচনা করেন এবং বরপেটার স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত করেন।একবার এই পরিকাঠামোমূলক প্রকল্পগুলি কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত হয়ে গেলে সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্ব অঞ্চলকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলবে।